দিসপুরের কৃত্রিম বন্যার জন্য মেঘালয়ের জল, মালিগাঁওয়ের বন্যা আমাদের নিজেদের ভুলে: মুখ্যমন্ত্রী

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১২ আগস্ট : দিসপুর সংলগ্ন এলাকায় কৃত্রিম বন্যার অন্যতম প্রধান কারণ মেঘালয় থেকে দ্রুতগতিতে নেমে আসা জল। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান মেঘালয়েই করতে হবে। অন্যদিকে, মালিগাঁওয়ে কৃত্রিম বন্যার জন্য নিজেদের ভুলকেই দায়ী করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বুধবার দিসপুরের লোকসেবা ভবনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গুয়াহাটির কৃত্রিম বন্যা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দিসপুরের আশপাশের এলাকায় জল জমার অন্যতম প্রধান কারণ মেঘালয় থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নেমে আসা জল। এই সমস্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট একটি কমিটি গঠন করেছিল এবং ইতিমধ্যেই সেই কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে। রিপোর্টে জোরাবাটের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ায় ওই এলাকা থেকে নেমে আসা বন্যার জল আটকানোর সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে। তাই সমস্যার সমাধান মেঘালয়েই করতে হবে। যেকোনও মূল্যে ওই বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার করতে হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপের জন্য সরকার আদালতের কাছে আবেদন জানাবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মালিগাঁওয়ের কৃত্রিম বন্যা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে প্রথমবার জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ার সময় মালিগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে বিপুল পরিমাণ জল জমে গিয়েছিল। তদন্তে দেখা যায়, এলাকার কয়েকটি দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী নালায় ফেলে দেওয়ার কারণে নালাগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি বোঝানোর পর নালা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয় এবং সাধারণ মানুষও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। এর ফলেই গত দুই দফা বৃষ্টিতে মালিগাঁওয়ে আর জলাবদ্ধতা দেখা দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সবকিছুর জন্য মেঘালয়কে দোষ দেওয়া যায় না। আমরা গুয়াহাটির কৃত্রিম বন্যার বিরুদ্ধে লড়াই করছি এবং তা চালিয়ে যাব। কিছু সমস্যার সমাধান স্থানীয়ভাবেও করা সম্ভব।”

তিনি আরও জানান, ন্যাশনাল হাইওয়ের মাধ্যমে রিং রোড প্রকল্পের আওতায় নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। যদিও রাজ্য সরকার আরও অর্থের আবেদন জানিয়েছে। আগামী বছর জাতীয় সড়কের লাকরা অংশে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, গুয়াহাটির কৃত্রিম বন্যার ক্ষেত্রে সরকারেরও কিছু ভুল রয়েছে বলে স্বীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনেক জায়গায় জল নিষ্কাশনের পরিবর্তে সরকারের তৈরি নালা দিয়ে জল উল্টো ফিরে আসছে। পাশাপাশি, ঠিকাদাররা নালা নির্মাণের কাজ শেষ করার পর ইঞ্জিনিয়াররা সঠিকভাবে সেগুলি পরিদর্শন না করায় বেশ কয়েকটি এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে না বলেও জানান তিনি।

গুয়াহাটির কৃত্রিম বন্যা মোকাবিলায় জনসাধারণের সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নালা থেকে যে সমস্ত সামগ্রী উদ্ধার হচ্ছে, সেগুলি কারা ফেলছে সে বিষয়টিও নাগরিকদের ভাবতে হবে। গুয়াহাটির কৃত্রিম বন্যা মোকাবিলায় একটি “নাগরিক আন্দোলন” গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গুয়াহাটি পাহাড় দিয়ে ঘেরা। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *