১৩ আগস্ট : প্রতিবেশী কোনও দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি। জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাগদাদ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার ইরাকের বিমান প্রতিরক্ষা কমান্ডের অপারেশন সেন্টার পরিদর্শনের সময় জাইদি বলেন, ইরাকের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড কোনও পক্ষের আগ্রাসনের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব অলঙ্ঘনীয় এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টা সহ্য করা হবে না।
ইরাকের এ অবস্থান এমন এক সময়ে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। এর আগে ৭ আগস্ট সউদী গোয়েন্দাপ্রধান খালিদ আল-হুমাইদানের সঙ্গে বৈঠকেও জাইদি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেন এবং ইরাকের ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার না করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি ইরাকের ভূখণ্ডে সৌদি নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা এবং ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলার হুমকির মধ্যেই বাগদাদ এ অবস্থান নিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি তেল অবকাঠামোয় হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে এসব বিমান হামলা চালানো হয়েছিল। এতে ইরাক আঞ্চলিক সংঘাতে আরও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
জাইদির বক্তব্যে ইরাকের বিদেশ ও নিরাপত্তা নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও স্পষ্ট হয়েছে—বাগদাদ নিজ ভূখণ্ডকে কোনো আঞ্চলিক শক্তির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের মঞ্চ হতে দিতে চায় না। একই সঙ্গে ইরাকের আকাশসীমা ও সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে রাখার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।
ইরাকের এই অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটি ইরান, সৌদি আরব, সিরিয়া ও তুরস্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তির প্রতিবেশী। ফলে কোনও পক্ষ ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করলে তা সহজেই দেশটিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে।



