বরাক তরঙ্গ, ২৪ জুন : অরুণাচল প্রদেশে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যাসদৃশ পরিস্থিতির ফলে উদ্বেগজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে প্রতিবেশী রাজ্য অসমেও। রাজ্যের একাধিক জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় অসম সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে মুখ্য সচিব সংশ্লিষ্ট সমস্ত দপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে সমন্বয় বজায় রেখে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির প্রশাসনকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে এবং সময়মতো প্রতিরোধমূলক ও ত্রাণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এসডিআরএফ, এনডিআরএফ এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবার দলগুলিকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নদীতীরবর্তী ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলির উপর নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের পরামর্শ অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র ও অন্যান্য নদীতে ছোট বা দেশীয় নৌকা চলাচল থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
এদিকে, অরুণাচলের এই পরিস্থিতির প্রভাবে অসমের বিভিন্ন জেলায় ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলির জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ধেমাজি, লখিমপুর, বিশ্বনাথ ও শোণিতপুর জেলা প্রথম ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের জলস্তর বৃদ্ধির ফলে ধুবড়ি জেলাও প্রভাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই কারণে রাজ্য সরকার উচ্চ পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
উল্লেখ্য, গুয়াহাটি ও ইটানগরে অবস্থিত আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, লোয়ার সুবনশিরি জেলার ইয়াজালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৭২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ২৪ জুন সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে প্রবল বর্ষণের জেরে বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পেনয়োর লোয়ার হাইড্রো ইলেকট্রিক প্রকল্প (পূর্বতন রঙ্গানদী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প) এলাকায় আকস্মিক বন্যার খবর পাওয়া গেছে। প্রকল্পের জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং অতিরিক্ত জল নিষ্কাশনের জন্য একটি স্পিলওয়ে গেট খুলে দেয়। এর ফলে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বহু মানুষের বাড়িঘর এবং বিভিন্ন অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।



