বরাক তরঙ্গ, ৮ আগস্ট : শিবসাগর জেলার বৃহত্তর নাজিরা অঞ্চলকে গত ১৯ জুলাইয়ের ভয়াবহ বন্যা কার্যত তছনছ করে দিয়েছে। বিধ্বংসী বন্যার পর সেই অঞ্চলকে পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। তবে বন্যায় যেসব পরিবারের ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছে, তাঁদের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
অসমের প্রতিটি জেলা থেকেই সাধারণ মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি ভিনরাজ্য থেকেও বহু মানুষ বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বলিউডের মহাতারকা সলমন খানও।
সলমন খান এবং গ্লোবাল শিখস সংস্থা অন্যান্যদের সঙ্গে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। বন্যায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত নাজিরা মহকুমার অন্তর্গত নেপালিখুঁটির প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য নতুন করে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্যোগে গ্লোবাল শিখস এবং অভিনেতা-প্রযোজক সলমন খান যৌথভাবে বন্যায় বিধ্বস্ত পরিবারগুলির জন্য ঘর নির্মাণে সহায়তা করছেন। ঘরগুলি মাচাঘরের আদলে তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ফের বন্যা দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা ঘরের উঁচু অংশে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের জীবন রক্ষা করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গ্লোবাল শিখস ও সলমন খানের দলের উদ্যোগে নির্মিত এই ঘরগুলির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আশিয়ানা’। প্রতিটি ঘরে ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করে নেপালিখুঁটিতে নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে।
মানবিকতার নজির স্থাপন করে এই বিপদের সময় বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য গ্লোবাল শিখসের কর্মকর্তা তেজিন্দর পাল সিং অভিনেতা সলমন খানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি জানান, যতগুলি ঘর নির্মাণের প্রয়োজন হবে, সবকটি ঘর নির্মাণে সালমান খান সহযোগিতা করবেন। অর্থাৎ নেপালিখুঁটিতে যতগুলি বাড়ি প্রয়োজন, সেগুলি নির্মাণে সাহায্যের জন্য অভিনেতা প্রস্তুত রয়েছেন।
সলমন খান ও গ্লোবাল শিখসের দল উদ্যোগের প্রথম দিনেই ১০টিরও বেশি ঘর নির্মাণ করে ফেলেছে। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।



