বইয়ের বাইরে সমাজসেবার পাঠ, স্বচ্ছতা অভিযানে উজ্জ্বল মাকুন্দা খ্রিস্টিয়ান স্কুল

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৮ আগস্ট :
স্বচ্ছতা পাখওয়াদা উপলক্ষে মাকুন্দা খ্রিস্টিয়ান সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ পড়ুয়া, শিক্ষক, পঞ্চায়েত, প্রতিনিধি পুলিশ, বাজার কমিটি ও সাধারণ মানুষের সম্মলিত অভিযানে পরিচ্ছন্ন হলো বাজারিছড়া।ভারত সরকারের স্বচ্ছতা পাখওয়াদা

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল মাকুন্দা খ্রিস্টিয়ান সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল। শনিবার বিদ্যালয়ের উদ্যোগে বাজারিছড়া বাজার, মাকুন্দা রোড ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক স্বচ্ছতা অভিযান পরিচালিত হয়। এদিন শুধুমাত্র রাস্তার আবর্জনা পরিষ্কারই নয়, বরং সমাজকে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার এক মানবিক ও শিক্ষামূলক বার্তাও তুলে ধরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।সকালের প্রথম প্রহর থেকেই বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ৯৪ জন ছাত্র-ছাত্রী উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে হাতে ঝাড়ু, বর্জ্য সংগ্রহের ব্যাগ ও পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম নিয়ে নেমে পড়ে ‘এক কদম স্বচ্ছতা কী ঔর’ অভিযানে। তাঁদের পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয় কালাছড়া হাসপাতাল রোড থেকে এবং সেখান থেকে বাজারিছড়া বাজার অতিক্রম করে স্বামী বিবেকানন্দের প্রতিমূর্তির সম্মুখস্থিত তেমাথা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পাশাপাশি মাকুন্দা রোডের আশপাশের এলাকাও সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা হয়

ছাত্রছাত্রীরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে রাস্তার ধারে জমে থাকা প্লাস্টিক, কাগজ, বোতল ও অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্ধারিত ব্যাগে ভরে পরে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করে। তাদের এই কর্মকাণ্ড পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং অনেকেই এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।এই সামাজিক উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজ হাতে ঝাড়ু তুলে নেন বাজারিছড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সভানেত্রী ডলি রানি নন্দী। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেন এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তাঁর এই অংশগ্রহণ উপস্থিত সকলকে অনুপ্রাণিত করে।অভিযানকে সফল করে তুলতে এগিয়ে আসে বাজারিছড়া বাজার কমিটি, কালাছড়া বাজার কমিটি, বাজারিছড়া অটোরিকশা মালিক সংস্থা, বাজারিছড়া থানার পুলিশ এবং এলাকার বহু সমাজসেবী ও সচেতন নাগরিক। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ জোগাতে বাজার কমিটির পক্ষ থেকে শীতল পানীয় বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও এলাকার বহু ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পানীয় জল, ফল, আইসক্রিম, মিষ্টি ও জলখাবার দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান।স্বচ্ছতা অভিযানের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা দোকানদার, পথচারী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে আবেদন জানায়— নিজেদের বাড়ির চারপাশ, দোকানের সামনের অংশ এবং জনসমাগমস্থল সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কারণ পরিচ্ছন্ন পরিবেশ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি সুস্বাস্থ্য ও উন্নত নাগরিক জীবনের অন্যতম ভিত্তি।এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ডেনি পল বলেন আজকের এই কর্মসূচি হাতে নিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের যে আন্তরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসা আমরা পেয়েছি, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া জলখাবার, পানীয় জল, আইসক্রিম, মিষ্টি ও ফলমূল শুধু আপ্যায়ন নয়— এগুলো সমাজের মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা এবং উৎসাহের এক অসাধারণ বহিঃপ্রকাশ।তিনি আরও বলেন, আজ আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু একটি বাজার পরিষ্কার করেনি, তারা শিখেছে— আমরা যেখানে বাস করি, সেই পরিবেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করাই প্রকৃত নাগরিকত্ব ও সেবার সূচনা। পরিচ্ছন্নতা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক কর্তব্য। আজ যাঁরা আমাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই উদ্যোগকে অর্থবহ ও স্মরণীয় করে তুলেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

এদিনের এই স্বচ্ছতা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ডেনি পল, শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, বাজারিছড়া ও কালাছড়া বাজার কমিটির কর্মকর্তারা, বাজারিছড়া অটোরিকশা সংস্থার সদস্যরা, বাজারিছড়া থানার পুলিশ, গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা এবং এলাকার অসংখ্য সমাজসেবী ও সচেতন নাগরিক।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা শুধু পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বাস্তব কর্মের মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে সচেতন নাগরিক। বাজারিছড়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *