বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : অসমের গৌরীসাগর এলাকায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ভোররাতে একটি বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মিটং নদীতে পড়ে যায়। তবে সৌভাগ্যবশত গাড়ির চালক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। এ ঘটনায় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থার অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, ধ্রুবজ্যোতি শর্মা নামের এক যুবক তিনসুকিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। ভোররাতে গৌরীসাগর এলাকার ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন। তাঁর অভিযোগ, নবনির্মিত একটি সেতু দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় পুরনো ও নতুন সেতুর মধ্যে কোনও স্পষ্ট দিকনির্দেশক চিহ্ন না থাকায় তিনি ভুল পথে গাড়ি চালিয়ে ফেলেন। এর ফলে গাড়িটি সরাসরি মিটং নদীতে পড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় এএস-০১-জিএস-৩৮৪৩ নম্বরের গাড়িটি নদীতে তলিয়ে যায়। চালকও গাড়িসহ নদীতে পড়ে যান। তবে গাড়ির দরজা লক হয়ে গেলেও তিনি সানরুফ খুলে কোনওমতে বেরিয়ে এসে নিজের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ যুবকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পাশাপাশি নদীতে ডুবে যাওয়া গাড়িটি উদ্ধারের জন্য এসডিআরএফ-কে খবর দেয়। পরে উদ্ধারকারী দল অভিযান শুরু করে।
দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ধ্রুবজ্যোতি শর্মা বলেন, “আগে একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলতে দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম পাশ দিয়ে চলে যাব। কিন্তু ওইদিকে নামতেই নদীতে পড়ে যাই। গাড়ির দরজা লক হয়ে গিয়েছিল। পরে সানরুফ খুলে বেরিয়ে এসে প্রাণে বাঁচি।”
এই ঘটনার পর ফের একবার ৩৭ নম্বর জাতীয় সড়কে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যোরহাট থেকে শিবসাগর পর্যন্ত নির্মীয়মাণ চারলেন জাতীয় সড়কের কাজ প্রায় ১২ বছর ধরে চললেও বহু স্থানে এখনও পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ও দিকনির্দেশক সাইনবোর্ড লাগানো হয়নি। ফলে প্রায়ই চালকদের বিভ্রান্তির মুখে পড়তে হয় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
দুর্ঘটনায় আহত যুবকও একই অভিযোগ তুলে বলেন, “নির্দেশনা চিহ্ন থাকলেও তা আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত যাতায়াতকারীরা বিষয়টি বুঝতে পারলেও বাইরের বা অপরিচিত চালকদের পক্ষে তা বোঝা কঠিন।”
এদিকে, যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট স্থানে দ্রুত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশক ফলক ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



