বেসরকারি তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে নগদবিহীন ডায়ালিসিস পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ডিব্রুগড়ে

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন: অসম সরকারের এক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার শতাধিক ডায়ালিসিস রোগী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অসম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (এএমসিএইচ)-এর সামনে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ১ জুলাই থেকে বেসরকারি তালিকাভুক্ত হাসপাতালগুলিতে নগদবিহীন (ক্যাশলেস) ডায়ালিসিস পরিষেবা বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই এই আন্দোলন গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি জারি হওয়া এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (এবি-পিএমজেএওয়াই) এবং আয়ুষ্মান অসম-মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা (এএমএমজেএওয়াই)-এর আওতা থেকে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদি হেমোডায়ালিসিস, হেমোডায়ালিসিস, স্থায়ী টানেলড ক্যাথেটার স্থাপন এবং পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিস পরিষেবা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরেই রোগী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারি হাসপাতালগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে, বিশেষ করে আপার অসমের প্রধান তৃতীয় স্তরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র এএমসিএইচের উপর। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে হাসপাতালটিতে মাত্র ১২টি ডায়ালিসিস মেশিন রয়েছে, যা বিপুল সংখ্যক রোগীর চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। বর্তমানে বহু রোগী নিয়মিত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি ডায়ালিসিস কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল।

বিক্ষোভ চলাকালীন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা স্লোগান দিতে থাকেন এবং এএমসিএইচ সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত করেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষের বেঁচে থাকার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ডায়ালিসিস অত্যন্ত জরুরি, তাই সরকারকে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।

একজন বিক্ষোভকারী রোগী বলেন, “এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু দরিদ্র কিডনি রোগীর মৃত্যু হতে পারে।” অন্য এক প্রতিবাদকারী, যার মেয়েকে সপ্তাহে তিনবার ডায়ালিসিস করাতে হয়, মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়ে বলেন, “ডায়ালিসিস ছাড়া আমার মেয়ে বাঁচতে পারবে না। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি, তিনি যেন এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন এবং আমাদের সন্তানদের জীবনরক্ষাকারী একমাত্র সহায়তাটি কেড়ে না নেন।”
অসমজুড়ে ডায়ালিসিস রোগীদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের আশঙ্কা, আগামী মাস থেকে নতুন নীতি কার্যকর হলে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুতর সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *