শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বাংলা সাহিত্য সভা, অসম-এর সৌজন্য সাক্ষাৎ, সহযোগিতার আশ্বাস

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : অসমের শিক্ষামন্ত্রী ডা. রনোজ পেগুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করল বৃহত্তর বাঙালি সাহিত্য সংগঠন ‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’-এর একটি প্রতিনিধিদল। জনতাভবনে শিক্ষামন্ত্রীর নিজস্ব দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংগঠনের পক্ষ থেকে সভাপতি খগেনচন্দ্র দাস, রাজ্যিক সাধারণ সম্পাদক ড. প্রশান্ত চক্রবর্তী, উপদেষ্টা কৃষ্ণাঞ্জন চন্দ, সমাজকর্মী অজিতকুমার সেন, ‘মজলিশ সংলাপ’-এর সম্পাদক তুষারকান্তি সাহা, গুয়াহাটি শাখার সভাপতি অসীম সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক জয়া নাথ উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতের শুরুতে কৃষ্ণাঞ্জন চন্দ অসমের ঐতিহ্যবাহী ফুলাম গামোছা পরিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানান। পরে অজিতকুমার সেন সম্মানপত্র প্রদান করে তাঁকে অভিনন্দিত করেন। সংগঠনের সভাপতি খগেনচন্দ্র দাস কোষাধ্যক্ষ শিশির সেনগুপ্ত রচিত ‘অম্বুবাচী মেলা ও কামাখ্যা’সহ একাধিক গ্রন্থ শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। অন্যদিকে, ড. প্রশান্ত চক্রবর্তী সাহিত্য অকাদেমি প্রকাশিত অনূদিত গ্রন্থ ‘কথা রত্নাকর’ এবং কটন কলেজের প্রথম ভারতীয় অধ্যক্ষ সতীশচন্দ্র রায়ের রচনাবলির রবীন্দ্র-সংক্রান্ত খণ্ড উপহার দেন। তুষারকান্তি সাহা সংগঠনের মুখপত্র ‘মজলিশ সংলাপ’-এর সাম্প্রতিক সংখ্যাও শিক্ষামন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

পরবর্তী আলোচনায় ড. প্রশান্ত চক্রবর্তী জানান, শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ রণোজ পেগুর নির্দেশ ও সহযোগিতায় অসমের বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয়গুলির পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’-এর হাতে ন্যস্ত হয়েছে। তিনি ‘রাজ্য শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ’ (SCERT)-এর অধীনে ইতিমধ্যে সম্পন্ন হওয়া পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন সংক্রান্ত কাজের বিবরণও শিক্ষামন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

আলোচনার সময় শিক্ষামন্ত্রীর সামনে কয়েকটি দুষ্প্রাপ্য ঐতিহাসিক গ্রন্থও প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১৯২৬ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হরিপদ চট্টোপাধ্যায় রচিত ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘রানি জয়মতী’র মূল সংস্করণ, যা দেখে শিক্ষামন্ত্রী বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়াও প্রদর্শিত হয় অসম বিষয়ক দুটি বিরল ইংরেজি গ্রন্থ—ই. এলিজাবেথ ভিকল্যান্ডের Women of Assam (১৯২৮) এবং মিসেস পি. মুরের Autumn Leaves from Assam।

শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ রণোজ পেগু এইসব দুর্লভ গ্রন্থ পুনর্মুদ্রণের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’-এর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এদিন জনতাভবনে উপস্থিত দিবান্দ্র পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষা ড. জয়শ্রী চক্রবর্তীও শিক্ষামন্ত্রীর আমন্ত্রণে আলোচনায় যোগ দেন।

সাক্ষাৎ শেষে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ড. প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, অসমে দীর্ঘদিন ধরে দুই উপত্যকার বাঙালিদের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো ঐক্যবদ্ধ সাহিত্য সংগঠন ছিল না। বর্তমানে বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বহু সাহিত্যপ্রেমী, সমাজমনস্ক ও সংস্কৃতিমনস্ক মানুষকে একত্রিত করে একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সংগঠনটির কার্যক্রমে স্বীকৃতি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় দায়িত্বও বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. রনোজ পেগুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, অসমের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সমন্বিত সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত অগ্রগতির লক্ষ্যে সরকারের ইতিবাচক ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ হবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, বাংলা মাধ্যমের পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, সাহিত্যচর্চা এবং অসমিয়া-বাঙালি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা আগামী দিনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *