যোগব্যায়াম মানবজাতির প্রতি এক অমূল্য উপহার ভারতের : কৌশিক

Spread the news

বিশ্বজিৎ আচার্য, শিলচর।

বরাক তরঙ্গ, ২১ জুন : ঐতিহাসিক খাসপুর কছারি ফোর্টে রবিবার জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পালিত হল ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। কাছাড় জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য সমিতির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী, যোগপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’ (Yoga for Healthy Ageing)। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে সব বয়সের মানুষের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আবেগগত ভারসাম্য রক্ষায় যোগব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

দেশব্যাপী উদযাপনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিতরা ‘পিএম শ্রী গাঁও-গাঁও যোগ মহা অভিযান’ এবং ‘আমার মাটি-আমার নায়ক’ কর্মসূচির ভার্চুয়াল উদ্বোধনের সরাসরি সম্প্রচার প্রত্যক্ষ করেন। অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। কামরূপ, কাছাড়, শোণিতপুর, যোরহাট, কোকরাঝাড় এবং বঙ্গাইগাঁও জেলাজুড়ে পরিচালিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য যোগব্যায়াম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাজ্যের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ানো।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য, গণবণ্টন ও ভোক্তা বিষয়ক, গৃহনির্মাণ ও নগর বিষয়ক এবং সমবায় মন্ত্রী কৌশিক রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উদারবন্দের বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা, অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (স্বাস্থ্য) মনোজ্যোতি কুটুম, সার্কেল অফিসার প্রণবানন্দ দৌরাহ, স্বাস্থ্য পরিষেবার যুগ্ম পরিচালক ডা. সুমনা নাইডিং, বিদ্যালয় পরিদর্শক মিথুন জাহারি, জেলা ক্রীড়া আধিকারিকসহ স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, পৌর ও শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায় বলেন, যোগব্যায়াম ভারতের পক্ষ থেকে মানবজাতির প্রতি এক অমূল্য উপহার। এটি শুধু শারীরিক ব্যায়াম নয়, বরং শরীর, মন ও আত্মার সমন্বিত বিকাশের একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনচর্চা। বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রাজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সুস্থ ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তুলতে প্রত্যেকের দৈনন্দিন জীবনে যোগচর্চাকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে ঐতিহাসিক খাসপুর কছারি ফোর্টে এই কর্মসূচির আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে ধন্যবাদ জানান।

বিধায়ক রাজদীপ গোয়ালা তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যক্তিগত সুস্থতা নিশ্চিত করতে যোগব্যায়াম বিশ্বজুড়ে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। নিয়মিত যোগচর্চা মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক দৃঢ়তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি তরুণ প্রজন্মকে সুস্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের সঙ্গে নিজেদের আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করতে যোগব্যায়াম গ্রহণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রশিক্ষিত যোগ প্রশিক্ষক চন্দন দেবের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত গণযোগাভ্যাস। অংশগ্রহণকারীরা শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে বিভিন্ন যোগাসন ও যোগব্যায়াম অনুশীলনে অংশ নেন।
পরে জেলা-স্তরের যোগাসন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর বিজয়ীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। যোগচর্চায় তাঁদের নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *