হাইলাকান্দিতে নতুন ভরসা, শাসক-বিরোধী দুই তরুণের হাতেই উন্নয়নের প্রত্যাশা

Spread the news

।। নীলকণ্ঠ চৌধুরী ।।
(হাইলাকান্দি)
৬ মে : পরিবর্তন! শব্দটির অর্থ বহুমাত্রিক। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ পরিবর্তন চান ভালো কিছুর আশায়—নতুন স্বপ্ন, নতুন দিশা আর নতুন পথচলার প্রত্যাশায়। সদ্য সমাপ্ত ভারতের পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন স্পষ্ট। সর্বত্রই এখন জনগণের একটাই প্রত্যাশা—“আমাদের ভালো হোক”।

পার্শ্ববর্তী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও এবছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়েছে। জনগণ ‘দিদি’র পরিবর্তে ‘দাদা’র পক্ষে রায় দিয়েছেন। আর আমাদের রাজ্য অসমে জনগণ পুনরায় ‘মামা’র উপরই আস্থা রেখেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে অসমের হাইলাকান্দি জেলা এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে। জেলার দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্র—হাইলাকান্দি ও আলগাপুর-কাটলিছড়া—থেকে এবার নির্বাচিত হয়েছেন দুই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি, যাঁদের উপরই আস্থা রেখেছেন ভোটাররা।

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর চিত্তেন্দ্র নাথ মজুমদারের পর প্রাক্তন ছাত্রনেতা ড. মিলন দাস ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে ১২১ নম্বর হাইলাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জুবায়ের এনাম মজুমদার ১২২ নম্বর আলগাপুর-কাটলিছড়া আসন থেকে জয়লাভ করেছেন।

ডিলিমিটেশনের পর এই প্রথম নির্বাচনে জেলার ভোটাররা অভিজ্ঞতার চেয়ে নতুন প্রজন্মের উপর বেশি ভরসা রেখেছেন। একদিকে যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি হিসেবে পরিচিত জুবায়ের এনাম মজুমদার লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হয়েছেন, অন্যদিকে বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি ড. মিলন দাস পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি ভোটে জয় পেয়ে রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। ফলে গোটা জেলায় উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

জয়ের পর ড. মিলন দাস জানিয়েছেন, তিনি সবার মতামত নিয়ে জেলার উন্নয়নের একটি সুসংহত রূপরেখা তৈরি করবেন। একইভাবে জুবায়ের এনাম মজুমদারও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই দুই তরুণ নেতার উত্থান কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং এটি ভোটারদের মানসিকতার পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত। কাটলিছড়ার মতো প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে আসা মিলন দাস বিগত নির্বাচনে পরাজিত হলেও গত পাঁচ বছর ধরে জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছেন এবং দলীয় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই ধারাবাহিক সংযোগই জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে। সাধারণ জীবনযাপন ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি প্রাক্তন বিধায়ক রাহুল রায়কে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছেন বলে অনেকেই মনে করেন।

অন্যদিকে, “স্থানীয় নন” বিতর্ক সত্ত্বেও জুবায়ের এনাম মজুমদার উচ্চশিক্ষিত এই তরুণ প্রার্থী লক্ষাধিক ভোটে অভিজ্ঞ তিনজন প্রাক্তন বিধায়ককে পরাজিত করে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেছেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত।

এই ফলাফলে বার্তা স্পষ্ট—মানুষ এখন উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং কার্যকর নেতৃত্ব চায়। এখন দেখার বিষয়—হাইলাকান্দি জেলার এই দুই তরুণ শাসক-বিরোধী বিধায়ক কীভাবে জেলার উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যান। তার উত্তর দেবে একমাত্র সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *