ভুয়ো আদালতের নির্দেশে ১৬ বন্দির মুক্তি, ৩ জন এখনও পলাতক, তদন্তে পুলিশ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১ মে : লুংলেই জেলা কারাগার থেকে ভুয়ো আদালতের নির্দেশপত্রের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া ১৬ বন্দির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় এখনও ৩ জন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে জেরেমি থাংতুরাকে, যিনি বর্তমানে লুংলেই জেলা কারাগারেই বন্দি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭২ ঘণ্টার পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। লুংলেই জেলা আদালত ১ মে ২০২৬ তারিখে সেই আবেদন মঞ্জুর করে এবং তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও জেরা চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মুক্তি পাওয়া ১৬ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, আর ১২ জনকে পুনরায় গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, গৌহাটি হাইকোর্টের আইজল বেঞ্চের রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারের নামে ভুয়ো নির্দেশপত্র তৈরি করে এই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়। জেল কর্তৃপক্ষ ওই নথিকে আসল মনে করেই বন্দিদের ছেড়ে দেয়। উল্লেখ্য, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিরা মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত আইন (NDPS Act), পকসো আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধি/বিএনএস-এর অধীনে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন।

এছাড়া, এই জাল নথি তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে লুংলেই জেলা কারাগারে বন্দি জেরেমিয়া লালথাংতুরা (২২)-র নামও উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে মোট ৮টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জাল চেক তৈরি, প্রতারণা এবং অনলাইনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভুয়ো মুক্তির নির্দেশপত্রটি এতটাই নিখুঁতভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে তা আসল থেকে আলাদা করা কঠিন ছিল। তাদের মতে, এই ঘটনায় বাইরের কারও সহযোগিতা ছাড়া এমন কাজ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, কম্পিউটার ও আদালতের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের জড়িত থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *