৩০ এপ্রিল : আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল মার্কিন বিদেশ মন্ত্রক। শীঘ্রই সীমিত সংস্করণে বিশেষ পাসপোর্ট চালু হতে চলেছে, যার ভিতরের প্রচ্ছদে থাকবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর বড় আকারের ছবি। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নকশার এই পাসপোর্ট নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে মার্কিন নাগরিকরা পেতে পারবেন এবং তা মূলত ওয়াশিংটন ডিসির নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমেই বিতরণ করা হবে।
মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, এই পাসপোর্টে ‘কাস্টমাইজড আর্টওয়ার্ক’ ও উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ভিতরের কভারে ট্রাম্পের ছবির পাশাপাশি থাকবে United States Declaration of Independence-এর অংশ, জাতীয় পতাকা এবং সোনালি রঙে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর। এই উদ্যোগ ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপন কর্মসূচির অংশ।
উদযাপনের তালিকায় আরও থাকছে ন্যাশনাল মলে বিশেষ রেস এবং হোয়াইট হাউসের লনে ‘UFC’ লড়াইয়ের আয়োজন।
তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, রাজতন্ত্র থেকে মুক্তির ২৫০ বছর পর কোনও একক নেতার ছবি সরকারি পাসপোর্টে ব্যবহার করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। সমালোচকদের দাবি, এর আগেও বিভিন্ন সরকারি ভবন ও নথিতে ট্রাম্পের ছবি ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের ন্যাশনাল পার্ক পাসেও জর্জ ওয়াশিংটনের সঙ্গে ট্রাম্পের ছবি যুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া নতুন মুদ্রার নকশায় ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের প্রস্তাব এবং ওয়াশিংটন ডিসি এ ২৫০ ফুট উচ্চতার ‘আর্ক দ্য ট্রাম্প’ নির্মাণের পরিকল্পনাও বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে। এই স্মারকটি উচ্চতায় United States Capitol ও Lincoln Memorial-কেও ছাড়িয়ে যাবে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তির এই উদ্যোগ এখন আমেরিকার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর বিতর্কের কেন্দ্রে।



