বরাক তরঙ্গ, ২৫ এপ্রিল : আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিকই নিখোঁজ বাকপ্রতিবন্ধী কন্যাশিশুকে প্রায় এক বছর পর অবশেষে পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দিল। ঘটনাটি চড়াইদেও জেলার। আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণই তার পরিচয় উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
জানা গেছে, বুদ্ধিবিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ও বাকপ্রতিবন্ধী এই শিশুটিকে ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সমগ্র প্রক্রিয়ায় ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ইউআইডিএআই), চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি, স্থানীয় পুলিশ এবং শিশু সুরক্ষা সংস্থাগুলি যৌথভাবে কাজ করে।
সূত্রের খবর, ২০২৫ সালের ২৯ মে ডিব্রুগড় জেলার নামরূপের দিল্লি ঘাট এলাকায় শিশুটিকে একা ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এবং চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি, ডিব্রুগড়ের সামনে পেশ করে। পরে তাকে দুলিয়াজানের মৃণালজ্যোতি জ্যোতিনিবাস শিশু গৃহে নিরাপত্তা ও পরিচর্যার জন্য রাখা হয়।
তবে কোনও পরিচয়পত্র বা যোগাযোগের তথ্য না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের সন্ধান মেলেনি। প্রচলিত সব পদ্ধতি ব্যর্থ হলে শিশু গৃহ কর্তৃপক্ষ গুয়াহাটিতে অবস্থিত ইউআইডিএআই-এর আঞ্চলিক কার্যালয়ের দ্বারস্থ হয়।
ইউআইডিএআই-এর পরামর্শ অনুযায়ী শিশুটির আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে আধার নিবন্ধন করা হয়। এরপরই বড় সাফল্য আসে—তার বায়োমেট্রিক তথ্য আধারের ডাটাবেসে থাকা পূর্ববর্তী রেকর্ডের সঙ্গে মিলে যায়।
এর ভিত্তিতে চড়াইদেও জেলার বোরহাট চা বাগানে তার বাড়ির ঠিকানা শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে প্রশাসন পরিবারকে খুঁজে বের করে এবং সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে পরিবারের হাতে তুলে দেয়। কর্তৃপক্ষের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে আধার কতটা কার্যকর, বিশেষ করে যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে কোনো তথ্য জানাতে অক্ষম।
এদিকে, ইউআইডিএআই অভিভাবকদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়েছে, ৫–৭ বছর এবং ১৫–১৭ বছর বয়সী শিশুদের বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক আপডেট (এমবিইউ) নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করতে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।



