১০ জুন : চেন্নাইয়ের পেরাম্বুর রেলওয়ে স্টেশনের ৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে হঠাৎ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একটি নীল রঙের ট্রলি ব্যাগ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় এক যাত্রী রেল পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাটি গত ৫ জুনের। ট্রলি ব্যাগটি খুলতেই উদ্ধার হয় একটি অর্ধগলিত মুণ্ডবিহীন মৃতদেহ। সঙ্গে সঙ্গেই চেন্নাই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। রেলস্টেশনের আশপাশের প্রায় ১,০০০টি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তদন্তের মধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে আসে।
পুলিশের হাতে চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতালের একটি রসিদ আসে। এরই মধ্যে দু’দিন পর, ৭ জুন, চেন্নাইয়ের চেঙ্গালপট্টু এলাকায় উদ্ধার হয় একটি মানবমুণ্ড। পরে জানা যায়, সেটি অসমের গোসাইগাঁওয়ের যুবক আমির হোসেনের। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১০ বছর ধরে চেন্নাইয়ে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন আমির। এরপর অ্যাপোলো হাসপাতালের নির্মাণকাজে যুক্ত শ্রমিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, দু’দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
এই তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ আবার তদন্ত জোরদার করে। আমির হোসেনের ভাড়া বাড়িতে পৌঁছায় তদন্তকারী দল। সেখানেই প্রথমবার সামনে আসে এক যুবতীর নাম— রহিমা খাতুন, আমিরের প্রেমিকা। গোসাইগাঁওয়ের তুলসীবিলের হারাভাঙা গ্রামের বাসিন্দা আমির দীর্ঘদিন ধরে চেন্নাইয়ে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন। কিছুদিন আগে অ্যাপোলো হাসপাতালে কাজের সূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক রহিমা খাতুনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তারা একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। এরই মধ্যে রহিমার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তিনি কলকাতার একটি গোপন স্থানে আত্মগোপন করেছিলেন। বিষয়টি আমির জানতেন।
তবে ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে কলকাতা থেকে চেন্নাইয়ে ফিরে আসেন রহিমা খাতুন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও দু’জন সহযোগী। অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দুধের সঙ্গে সাতটি ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আমিরকে খাওয়ানো হয়। তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে মাছ কাটার দা দিয়ে তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়। এরপর মাথাটি চেঙ্গালপট্টুর একটি জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়। দেহের ধড় ট্রলি ব্যাগে ভরে রাখা হয় এবং হাত-পা কেটে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশের তদন্তে আরও জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক রহিমা খাতুন এবং তাঁর প্রেমিক আশরাফ আলি। আশরাফ আলি ছিলেন রহিমা খাতুনের দ্বিতীয় স্বামী বলে তদন্তে উঠে এসেছে।



