বরাক তরঙ্গ, ১০ জুন : বরাকে গৌহাটি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্থাপনের দাবিতে ‘হাইকোর্ট বেঞ্চ ডিমান্ড কমিটি’ আহুত আন্দোলন ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে। সম্প্রতি একাংশ আইনজীবী একটি সভায় পাঁচগ্রামে এই বেঞ্চ স্থাপন করতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন। আপাতত এই ধরনের দাবি উহ্য রেখে সবাইকে একজোট হয়ে প্রথমে বরাকে হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপনের দাবি ও তার বাস্তবায়নে সক্রিয় হবার আহ্বান জানালেন আকসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রদীপ দত্তরায়।
বুধবার সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদীপ দত্তরায় বলেন, পাঁচ গ্রাম বা বদরপুরে বেঞ্চ স্থাপনের দাবিতে হয়তো যুক্তি আছে, যেহেতু তা বরাকের তিন জেলার মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে যে আন্দোলন সবে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। সরকার কিন্তু এখনো এই ব্যাপারে কোন প্রতিশ্রুতি বা পদক্ষেপ নেয়নি। তাই এই মুহূর্তে এইসব বিতর্কের ফলে আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং তার সুযোগ নিয়ে বিভাজনের মাধ্যমে আন্দোলনকে পঙ্গু করে দেবার চেষ্টা হতে পারে। তাই আমাদের সাবধান থাকতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব এই দাবিতে সরকার থেকে সম্মতি আদায়। সেটি হয়ে গেলে তখন বরাকের কোথায় বেঞ্চ স্থাপন হলে তা সবার পক্ষে উপযুক্ত হবে,তা সুস্থ আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
প্রদীপ দত্তরায় আরও বলেন, বরাকের কোন দাবিই আন্দোলন ছাড়া বাস্তবায়িত হয়নি। তাই হাইকোর্ট বেঞ্চ ডিমান্ড কমিটির নেতৃত্বে এই আন্দোলন যেভাবে সর্বস্তরে সমর্থন পাচ্ছে তাতে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন যে ১৯৮৩ সালে বরাকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তাতে প্রথম অংশ নিয়েছিল ছাত্র ছাত্রীরা। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে এই আন্দোলন শ্রমিক,কৃষক, বুদ্ধিজীবী, প্রৌঢ় সবার সমর্থন আদায় করতে সমর্থ হয়। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বরাকের সর্বস্তরের মানুষ এটিকে গনআন্দোলনের রূপান্তরিত করেন। ফলে বাধ্য হয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এই দাবি মেনে নিয়ে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে। তিনি বলেন, যে এটা খুশির ব্যাপার যে হাইকোর্ট বেঞ্চ ডিমান্ড কমিটির এই আন্দোলনও আইনজীবী ছাড়িয়ে বরাকের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ধীরে ধীরে সঞ্চারিত হচ্ছে। আপাতত গনসাক্ষর অভিযানের মাধ্যমে এই দাবিকে জোরদার করার কাজ চলছে। তিনি বলেন শুধু বরাক উপত্যকা নয়, পার্শ্ববর্তী ডিমা হাসাও জেলায়ও এই দাবি জনগণের সমর্থন পাচ্ছে।
তিনি বলেন যদি বরাকের সর্বস্তরের মানুষ এই দাবিতে সোচ্চার হোন তবে অবশ্যই রাজ্য সরকার এই প্রস্তাবে সাড়া দিতে বাধ্য হবে এবং তিনি এই ব্যাপারে আশাবাদী।



