বরাক তরঙ্গ, ১৪ এপ্রিল : চলে গেলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বেদব্রত বরুয়া। মঙ্গলবার বার্ধক্যজনিত শারীরিক অসুস্থতার কারণে গুয়াহাটির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স ছিল ৯৮ বছর।
১৯২৮ সালের ১৪ জুলাই জন্মগ্রহণ করা বেদব্রত বরুয়া ১৯৬৯-১৯৭০ সালে ভারত সরকারের আইন ও বিচার বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কলিয়াবর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
বেদব্রত বরুয়া কলিয়াবর লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে তিনবার জয়ী হয়ে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। প্রথমবার ১৯৬৭ সালে তিনি লোকসভায় নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭১ এবং পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালেও তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন। এছাড়াও ১৯৬৯-৭০ সালে তিনি কেন্দ্রীয় আইন, বিচার ও কোম্পানি বিষয়ক দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকারে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, অবিভক্ত শিবসাগর জেলায় জন্মগ্রহণ করা বেদব্রত বরুয়া পরবর্তীতে দিল্লির অলকানন্দা এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সাহিত্যচর্চাতেও আগ্রহী ছিলেন। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁর প্রবন্ধ সংবাদপত্র ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘মত অভিমত’ পাঠকমহলে সমাদৃত। এই গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে দৈনিক অগ্রদূত পত্রিকার সম্পাদক কনকসেন ডেকা তাঁকে একজন নির্লিপ্ত, নীতিবান এবং বিতর্কহীন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
বেদব্রত বরুয়া সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবেও কাজ করেছিলেন। আইন পেশায় থাকার সময় তিনি অসমের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অসমের প্রতিটি মানুষ যদি জাতির জন্য অবদান না রাখে, তবে অসমিয়া জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়।



