২ জুলাই : ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।
সর্বশেষ সরকারি হিসাবে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৫ জনে, আহত হয়েছেন ১১ হাজার ২৬৭ জন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। একই সঙ্গে হাজারো দুর্গত মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ জল ও আশ্রয়ের তীব্র সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, এত প্রাণহানিতে দেশের ‘আত্মা ক্ষতবিক্ষত’ হয়ে গেছে।
দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে দুর্বল হয়ে পড়া ভেনেজুয়েলায় এই দুর্যোগ নতুন করে মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে। বহু এলাকায় এখন সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার অভাব। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ সহায়তা পৌঁছালেও অনেক বাসিন্দার অভিযোগ, সরকারি সহায়তা এখনও চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
লা গুয়াইরার ১৮ বছর বয়সি বাসিন্দা দানিয়েলা আরমাস বলেন, ত্রাণ এলেও খাবারের জন্য মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও মারামারি লেগেই আছে।
এদিকে, ধ্বংসস্তূপ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগে চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। উদ্ধার অভিযান ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে রূপ নিচ্ছে, তবে হাজারো পরিবার এখনও স্বজনের খোঁজে অপেক্ষা করছে।



