সিআইটিতে খাদ্যে বিষক্রিয়া, অসুস্থ ৬২ ছাত্রী, মেডিক্যালে ভর্তি একাধিক ছাত্রী, তদন্তে দুই ম্যাজিস্ট্রেট

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৭ সেপ্টেম্বর : কোকরাঝাড়ের বালাজানে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারিগরি প্রতিষ্ঠান (সিআইটি)-এর ‘গাম্বারি ছিখলা’ ছাত্রীনিবাসে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনায় প্রায় ৬২ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শনিবার রাতে রাতের খাবার খাওয়ার পর একের পর এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জনেরও বেশি ছাত্রীকে ওই রাতেই কোকরাঝার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকালেও অসুস্থ কয়েকজন ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগ, খাবার খাওয়ার পর প্রায়ই তাঁদের পেটের সমস্যা দেখা দিত। শনিবার দুপুরের খাবারের পরও কয়েকজনের পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি হয়েছিল। রাতে খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর ফের পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং পরে বমি ও পেটের সমস্যায় আক্রান্ত হন অনেকে।

ছাত্রীদের আরও অভিযোগ, সিআইটির তিনটি ছাত্রীনিবাস—গাম্বারি ছিখলা, টি-২ এবং এ-১—এর জন্য একই রান্নাঘরে খাবার প্রস্তুত করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি। খাবারে পোকামাকড়, পিঁপড়া, মাছি, লোহার টুকরো ও চুল পাওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ছাত্রী। তাঁদের দাবি, প্রতি সেমিস্টারে খাবারের জন্য আগে ৬,৫০০ টাকা করে দিতে হলেও এবার ১৪,৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

হোস্টেলের ওয়ার্ডেন সুচরিতা সেন মাইতি জানান, রান্নাঘরের কর্মীদের রান্না ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। খাদ্যের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল এবং এ নিয়ে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। তবে এবার পরিস্থিতি গুরুতর আকার নিয়েছে বলে তিনি জানান।

ঘটনার তদন্তে দুই ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোকরাঝারের জেলা আয়ুক্ত পঙ্কজ চক্রবর্তী। অসুস্থ ছাত্রীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন জেলা আয়ুক্ত। ইতিমধ্যে খাদ্য পরিদর্শক জাইখ্লং বসুমতাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সিআইটির খাদ্য সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন কনক ব্রহ্ম নামে এক ঠিকাদার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *