দিল্লিতে মাঝরাতে গুলিবিনিময়ের পর গ্রেফতার ৬ বাংলাদেশী দুষ্কৃতী

Spread the news

১৬ এপ্রিল : মাঝরাতে উত্তেজনাপূর্ণ অভিযানে বড় সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। বন্দুকযুদ্ধের পর ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে একাধিক রাজ্যে ডাকাতি, খুন ও লুটপাটে জড়িত বলে অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, এই গ্রেপ্তারের ফলে বহু অমীমাংসিত মামলার জট খুলতে পারে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। দিল্লিতে সক্রিয় থাকার পর তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। গোয়া, কর্ণাটক, উত্তরপ্রদেশ-সহ একাধিক রাজ্যে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে গত বছর গোয়ায় দুটি বড় ডাকাতির ঘটনায় এই চক্রের নাম উঠে আসে। সেই সময় হামলায় বহু মানুষ আহত হন। লক্ষ লক্ষ টাকার গয়না ও নগদ লুট হয়। কর্ণাটকেও একই ধরনের ঘটনার হদিশ মেলে।

তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, এই চক্রটি দক্ষিণ দিল্লিতে ফের বড়সড় ডাকাতির পরিকল্পনা করছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ ও ১৫ এপ্রিলের মাঝরাতে সরাই কালে খাঁ এলাকার কাছে ফাঁদ পাতে পুলিশ। পুলিশ জানায়, দুষ্কৃতীদের ঘিরে ফেলতেই অভিযুক্তরা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করে এবং গুলি চালানো শুরু করে। পুলিশও সেই গুলির পাল্টা জবাব দেয়। বেশ কিছুক্ষণ এই গুলি বিনিময়ের পর ছয় দুষ্কৃতীকে পাকড়াও করা হয়।

ধৃতদের কাছ থেকে দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং বাড়িতে ঢুকে চুরি করার বিশেষ সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল। পুলিশের দাবি, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে আঘাত করে পালানোর কৌশল নিয়ে কাজ করছিল। সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনিভাবে দেশে ঢুকে অপরাধ ঘটিয়ে ফের পালিয়ে যেত তারা।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, দেশে থাকা কিছু পরিচিত ব্যক্তি তাদের সহায়তা করত। সম্ভাব্য টার্গেট চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে অস্ত্র জোগাড়—সব ক্ষেত্রেই স্থানীয় যোগাযোগ কাজে লাগানো হত। তবে অভিযানের সময় দুই অভিযুক্ত অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার পর গোটা চক্রটির শিকড় খুঁজে বের করতে জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অপরাধ ঠেকাতে আরও কড়া নজরদারি চালানো হবে বলে দাবি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *