৯ জুন : ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটা অন্তত ১০০টি সাইবার জালিয়াতির প্যাটার্নে মিল পেয়েছিল ED। ১০০ কোটি টাকার বেশি এই সাইবার প্রতারণার তদন্ত করতে নেমে আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বিদেশে ব্যবহার হচ্ছিল ভারতীয় সিম। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ৩৬ হাজার ভারতীয় মোবাইল সিম কার্ড কম্বোডিয়া থেকে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এর মধ্যে অন্তত ৫,৩০০টি সিম সরাসরি সাইবার প্রতারণায় ব্যবহার করা হয়েছিল।
ইডির তদন্ত শুরু হয় রাজস্থানের যোধপুর সাইবার ক্রাইম পুলিশের একটি FIR-এর ভিত্তিতে। অভিযোগ ছিল, কিছু পয়েন্ট-অফ-সেল (POS) কাউন্টার থেকে অসাধু বিক্রেতা অবৈধভাবে সিম কার্ড সক্রিয় করে তা অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। তদন্ত যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয় আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের যোগ।
তদন্তকারীরা জানান, ভারতে জাল নথি দিয়ে বা প্রতারণামূলক উপায়ে বহু মোবাইল ফোনের নম্বর অ্যাক্টিভ করা হয়েছিল। এরপর সেই সিম কার্ডগুলি মালয়েশিয় নাগরিকদের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হতো। সেখানে বসেই প্রতারকরা হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষকে টার্গেট করত।
ED প্রায় ২.৩ লক্ষ মোবাইল নম্বরের বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, এর মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার নম্বর কম্বোডিয়ায় সক্রিয় ছিল। আরও উদ্বেগের বিষয়, এই সিমগুলির মধ্যে ৫,৩০০টির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সাইবার প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই প্রতারণার অঙ্ক ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, সিম বিক্রেতাদের একটি অংশ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বল্প শিক্ষিত ও অসচেতন মানুষদের টার্গেট করত। কখনও নম্বর পোর্ট করার নাম করে, কখনও নতুন সিম দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হতো। এর পরে সেই নথি ব্যবহার করে বিপুল সংখ্যক সিম কার্ড সক্রিয় করা হয়। প্রকৃত গ্রাহকের অজান্তেই সেই সিম বিদেশে পাচার করে বিভিন্ন সাইবার প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে ইডি সম্প্রতি রাজস্থানের কিষানগড়, নাগৌর, যোধপুর এবং পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়। অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ডিজিটাল প্রমাণ এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা অর্থপাচারের দিকটিও খতিয়ে দেখছেন।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, কম্বোডিয়া গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারণা চক্রের অন্যতম ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রতারকরা সেখানে কল সেন্টার ও অনলাইন স্ক্যাম নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই তেলঙ্গনা সাইবার সিকিউরিটি ব্যুরো এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছিল, যারা ২০২৩ সাল থেকে ৬০০-রও বেশি ভারতীয় সিম কম্বোডিয়ায় পাচার করেছিল। সেই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, বর্তমান মামলাটি আরও বড় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ।



