বরাক তরঙ্গ, ২৬ জুলাই : গোলাঘাটের শহীদ কুশল কোঁওর চিকিৎসালয় থেকে তিন হাজতির পলায়নের ঘটনায় বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে এক সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) এবং দুই গৃহরক্ষী জওয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন এসআই বীরেন্দ্র বরা, গৃহরক্ষী জওয়ান ডিকু শইকিয়া এবং কৃষ্ণকান্ত দাস। অভিযোগ, তাঁদের অবহেলার সুযোগ নিয়েই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় তিন হাজতি।
শনিবার গোলাঘাটের শহিদ কুশল কোঁওর অসামরিক চিকিৎসালয়ের জেল হাজতিদের জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ট্রিপল মার্ডার মামলার মূল অভিযুক্ত নজিবুর রহমানসহ তিন হাজতি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পলাতক অপর দুই হাজতি হলেন রূপম কলিতা এবং অজয় গোয়ালা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে তিনজনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার ভোর প্রায় ৫টার পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের অসাবধানতার সুযোগ নিয়ে তারা হাসপাতালের লক-আপ থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই গোলাঘাট জেলা পুলিশ পলাতকদের গ্রেপ্তারে জোরদার তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চেকিং, নজরদারি এবং তল্লাশি আরও বাড়ানো হয়েছে।
গোলাঘাট জেলার সিনিয়র পুলিশ সুপার রাজেন সিং জানান, ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান অভিযুক্ত নজিবুর রহমানসহ তিন হাজতির পলায়নের ঘটনায় পুলিশের গাফিলতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক পুলিশ দল অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে, কর্তব্যরত গৃহরক্ষী বাহিনীর এক জওয়ান জানান, ভোরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বীরেন বরা বাড়ি যাওয়ার সময় লক-আপের চাবি তার কাছে রেখে যান। তিনি চাবিটি বালিশের নিচে রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে ঘুম থেকে উঠে দেখেন লক-আপের দরজা খোলা এবং তিন হাজতি উধাও। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পলাতকদের মধ্যে নজিবুর রহমান ট্রিপল মার্ডার মামলার প্রধান অভিযুক্ত এবং অপর দুইজন চুরির মামলায় অভিযুক্ত। অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা কর্তব্যরত জওয়ানের মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেলও নিয়ে যায়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



