বরাক তরঙ্গ, ৫ অক্টোবর : ত্রিপুরার খোয়াই জেলার তুলা শিখর গ্রামীণ উন্নয়ন ব্লকের অন্তর্গত চম্পা হাওরে সোমবার গ্রাম কমিটি নির্বাচনের ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গণনাকেন্দ্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) লাঠিচার্জ করে। তবে ঠিক কী কারণে গণনাকেন্দ্রে উত্তেজনার সূত্রপাত, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।
ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC)-এর গ্রাম কমিটি নির্বাচনের ভোট গণনা সোমবার রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন জানান, সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ৪৪টি নির্ধারিত গণনাকেন্দ্রে ভোট গণনা শুরু হয়।
ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় গণনা শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা। অনুরাগ সেনের মতে, ধলাই জেলার মানু-সহ বড় গ্রামীণ উন্নয়ন ব্লকগুলিতে ভোট গণনা দু’দিন পর্যন্ত চলতে পারে। দ্রুত গণনা প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর মোট ৫৮৭টি গ্রাম কমিটির জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যে সামগ্রিক ভোটদানের হার ছিল ৮১ শতাংশ। মোট ৪,৫৯৭টি আসনের মধ্যে ২,৯৫০টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকি ১,৬৪৪টি আসনে তিপ্রা মথা পার্টি (TMP) ও বিজেপির প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন।
এবারের নির্বাচনে তিপ্রা মথা, বিজেপি, সিপিআই(এম), কংগ্রেস এবং ইন্ডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা (IPFT)-সহ বিভিন্ন দলের মোট ৮,১৭৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটগ্রহণের দিন ওয়ারেংবাড়িতে গুলিচালনার ঘটনায় তিপ্রা মথার এক প্রার্থী আহত হওয়ার পর থেকেই উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি, গোমতী জেলার কয়েকটি এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৬৩ ধারায় নিষেধাজ্ঞাও জারি রয়েছে



