২২ এপ্রিল : নেপালের কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর থাকবে না রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথম বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নেপালে বলেন্দ্র শাহের মন্ত্রিসভা। তার বিরুদ্ধেই এ বার আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করেছে সে দেশে। ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই বলেন্দ্রর সরকারের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে পথে নেমেছেন বহু মানুষ। অবস্থান বিক্ষোভ হয়েছে কাঠমান্ডুর ‘সিংহ দরবার’-এও, যেখানে একাধিক প্রশাসনিক দপ্তর রয়েছে। প্রতিবাদ-বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং পড়ুয়ারা। বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে অন্যান্য শহরেও।
গত মার্চে বলেন্দ্রর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক হয়। নতুন সরকারের কাজের রূপরেখা কেমন হবে, তা নিয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওই বৈঠকে। সেখানে মোট ১০০ দফা পরিকল্পনায় অনুমোদন দেওয়া হয়। তার মধ্যেই ছিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি দপ্তরকে রাজনৈতিক সংগঠনমুক্ত করার ভাবনা। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তখন থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল বিভিন্ন মহলে। প্রশ্ন উঠেছিল, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কি বকলমে ছাত্র রাজনীতি বা শ্রমিক সংগঠনকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলেই পথে নেমেছেন পড়ুয়াদের একাংশ। ঘটনাচক্রে, জেন জ়ি পড়ুয়াদের আন্দোলন থেকেই উত্থান হয়েছিল বলেন্দ্রর। সেই আন্দোলনের কারণেই নেপালি কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন হয় এবং পরে নির্বাচনে জিতে বলেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী হন।
ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপরে শুল্কনীতি চালু করা নিয়েও বলেন্দ্রর সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বহু মানুষ। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারত থেকে ১০০ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য আনা হলে তার উপর শুল্ক দিতে হবে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, সরকারের এই পদক্ষেপ তাঁদের আর্থিক বোঝা বেড়েছে। সীমান্ত এলাকার বাস্তবতা না বুঝেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুংয়ের বিরুদ্ধেও বেআইনি আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনে জড়িয়েছেন সুদান। তাঁর পদত্যাগের দাবিতেই পথে নেমেছেন অনেকে। যদিও এ নিয়ে সুদান বা সরকারপক্ষের কোনও বিবৃতি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।



