১০ জুন : হরমুজ প্রণালীর আকাশসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এ ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালীতে নিয়মিত টহলদানের সময় মার্কিন বাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। তিনি দাবি করেন, হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই পাইলট নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন এবং তারা সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন। তবে এ ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ও দৃঢ় পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
এদিকে, হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এ অভিযানের বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, এটি “ইরানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনুপাতিক প্রতিক্রিয়া” এবং আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থার অংশ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার নেটওয়ার্ক এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, বন্দর আব্বাস, কেশম ও সিরিক অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ঘটনার জেরে তেহরানও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ফলে দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, তাদের উদ্দেশ্য বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু করা নয়; বরং সাম্প্রতিক ঘটনার জবাব দেওয়া এবং নিজেদের বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।



