আগামী পাঁচ বছর ঝড়ের গতিতে কাজ করব, উন্নয়নের পথে কোনও বাধাই আমাদের থামাতে পারবে না : মুখ্যমন্ত্রী

Spread the news

আগামী পাঁচ বছর ঝড়ের গতিতে কাজ করব, উন্নয়নের পথে কোনও বাধাই আমাদের থামাতে পারবে না : মুখ্যমন্ত্রী“আগামী পাঁচ বছর আমরা অসমে ঝড়ের গতিতে কাজ করব। কেউ যদি উন্নয়নের পথে বাধার প্রাচীরও তৈরি করে, তবে অসমবাসীর আশীর্বাদে সেই প্রাচীর ভেঙে এগিয়ে যাব। আমরা কোনও চ্যালেঞ্জকে ভয় পাই না। অসমের অশ্বমেধের ঘোড়াকে আটকে রাখা যাবে না। জনগণ আমাদের কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা তাঁদের জন্যই কাজ করব।” — বুধবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিনে বাজেট বিতর্কে অংশ নিয়ে এই দৃঢ় অঙ্গীকার করেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
দীর্ঘ বাজেট ভাষণে তিনি উন্নত অসম গড়ার রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি বিরোধীদেরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিরোধীরা বাজেটকে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অজন্তা নেওগের বাজেটের ‘কপি-পেস্ট’ বলে মন্তব্য করেছেন। এর জবাবে তিনি বলেন, বিজেপি সরকার ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিরও ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। অসমের মানুষ তৃতীয়বার বিজেপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছেন, কারণ গত দশ বছরে সরকারের কাজের প্রতি তাঁদের আস্থা ও সন্তুষ্টি রয়েছে।

তিনি বলেন, “গত নির্বাচনে মানুষ পরিবর্তনের জন্য নয়, ধারাবাহিকতার জন্য ভোট দিয়েছেন। ২০১৬ সালে অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বাজেটে ১৮টি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ঘোষণা করেছিলাম। ভগবদ্গীতারও ১৮টি অধ্যায় রয়েছে। সেই ঐতিহ্যই আমরা গত ১১ বছর ধরে বজায় রেখেছি, ভবিষ্যতেও তা চলবে।”

কেন্দ্রের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই বাজেটে কেন্দ্রের প্রকল্প বেশি থাকার কারণেই আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁর নেতৃত্বেই অসম বড় স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছে। তাঁর সহযোগিতা না থাকলে কাজিরাঙার উপর এলিভেটেড করিডর কিংবা নুমালীগড়-গহপুর টানেলের মতো প্রকল্প কল্পনাও করা যেত না। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সহযোগিতা না থাকলে আজকের শান্তিপূর্ণ অসমও সম্ভব হতো না।”

তিনি আরও বলেন, “ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ভাবনা এই বাজেটের প্রতিটি পাতায় প্রতিফলিত হয়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করছে বলেই অসম দ্রুত এগোচ্ছে।”
বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অসমকে কীভাবে দেখা হবে, তা মানুষের মানসিকতার উপর নির্ভর করে। আমি চাই একজন গর্বিত অসমীয়া হিসেবে রাজ্যের সাফল্যের কথাই তুলে ধরতে।”

ভাষণের মাঝেই বিধায়ক অখিল গগৈ মন্তব্য করলে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষ করে বলেন, “এ ধরনের মন্তব্য করা তাঁর অভ্যাস। নিজের যোগ্যতা বাড়ানোর পরিবর্তে অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে হবে না। আমি ১০২ জন বিধায়কের নেতা, তাই সময়মতো সবকিছুর জবাব দেব।”
সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আজকের বিধানসভাই পরিবর্তিত অসমের প্রতীক। গত দশ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, তারই ফলস্বরূপ মানুষ আমাদের ১০২ জন বিধায়ককে জয়ী করেছেন। আগামী পাঁচ বছরও দিন-রাত পরিশ্রম করে অসমের উন্নয়নে নিজেদের উৎসর্গ করব।”
কৃষি ও সেচ দফতর একীভূত করার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কৃষি ও সেচকে একত্রিত করে আরও কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হবে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দফতরকে গুরুত্বহীন বলে দেখানোর চেষ্টা বিরোধীদের সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়।”

দারিদ্র্য হ্রাসের সাফল্যের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৫ সালে অসমে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩২.৬৭ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে ১৪.৪৭ শতাংশে নেমে এসেছে। তাঁর দাবি, গত এক দশকে প্রায় ২০ শতাংশ পরিবারকে দারিদ্র্যের বাইরে নিয়ে আসতে সরকার সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, “অরুণোদয় প্রকল্প দারিদ্র্য মোকাবিলায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। ‘নিজুত মইনা’ প্রকল্পের ফলে কলেজে ছাত্রীদের সংখ্যা বেড়েছে এবং বাল্যবিবাহও কমেছে।”

স্বাস্থ্যক্ষেত্রের উন্নয়নের কথাও তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাতৃমৃত্যুর হার ৪৮০ থেকে কমে ৮৪-তে নেমেছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধ এবং বিভিন্ন সামাজিক সূচকে অসম জাতীয় মানের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক মানসিকতার উপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যতদিন না আমরা ইতিবাচক বার্তা দিতে পারব, ততদিন রাজ্যের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। নিজেদের রাজ্যকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। তাহলেই অসমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *