বিশ্বজিৎ আচার্য, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ জুলাই : শিলচর শহরে ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে কাছাড়ের জেলা কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে শিলচর টাউন ইলেকট্রিক অটো কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সংগঠনের দাবি, শহরে প্রতিদিনই ইলেকট্রিক অটোর সংখ্যা বাড়ছে। এখনই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আসন্ন দুর্গাপূজার সময় যানজট ও জনভোগান্তি আরও চরম আকার ধারণ করবে।
স্মারকলিপিতে শহরের বেহাল সড়ক ব্যবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে চণ্ডীচরণ রোড দ্রুত সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে। কমিটির অভিযোগ, রাঙ্গিরখাল খনন প্রকল্পের কারণে চণ্ডীচরণ রোডের অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিলচর শহরের ইলেকট্রিক অটোগুলিকে চিহ্নিত করার জন্য একটি বিশেষ স্টিকার ও লোগো চালু করা হয়েছে। এই স্টিকার ও লোগোতে থাকা যোগাযোগ নম্বরের মাধ্যমে যাত্রীরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং সেই অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস দিয়েছে কমিটি।
এছাড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইলেকট্রিক অটোর চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়েছে। বুধবার জেলা কমিশনারের উদ্দেশ্যে জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্প্রতি গঠিত এই সংগঠন শিলচরের সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করছে। নতুন জেলা কমিশনারকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে শিলচর শহরে যানবাহনের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে শহরের বাইরের এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ইলেকট্রিক অটো প্রবেশ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতির সমাধানে জেলা প্রশাসনের কাছে ইলেকট্রিক অটোর চলাচলের জন্য একটি সুস্পষ্ট গাইডলাইন তৈরির আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের প্রস্তাব, শিলচর বিধানসভা কেন্দ্র ও শিলচর পুর এলাকার মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক ইলেকট্রিক অটো পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হোক এবং প্রতিটি অটোর জন্য পৃথক নম্বর বা মনোগ্রাম নির্ধারণ করা হোক। পাশাপাশি, বাইরের এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ইলেকট্রিক অটোর প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবিও জানানো হয়েছে।
কমিটির মতে, এই ধরনের নীতিমালা কার্যকর হলে শহরের যানজট অনেকটাই কমবে, ইলেকট্রিক অটো পরিষেবায় শৃঙ্খলা ফিরবে এবং সাধারণ মানুষ আরও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবেন। এখন দেখার বিষয়, ইলেকট্রিক অটোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসন এই স্মারকলিপির ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



