ট্রাম্প-ইরান সমঝোতায় চাপে নেতানিয়াহু, ইজরায়েলে বাড়ছে রাজনৈতিক অস্বস্তি

Spread the news

১৬ জুন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে দীর্ঘদিন ধরে নিজের অন্যতম বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর। তবে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তি এখন তার জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এমন এক সময়ে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, যখন আসন্ন নির্বাচনে ভালো ফলের আশা করছিলেন ইসরাইলের এই প্রবীণ নেতা।

ট্রাম্পকে বহুবার ইজরায়েলের “সবচেয়ে বড় বন্ধু” হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন নেতানিয়াহু। তার প্রশাসনকে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেছিল তেল আবিব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প এমন একটি সমঝোতার পথে এগিয়েছেন, যা ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ন রেখেছে। বিষয়টি ইজরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং প্রত্যাশিত কৌশলগত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। কট্টরপন্থি বিশ্লেষক Yinon Magal তেল আবিবের একটি রেডিও অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন, “ট্রাম্প নেতানিয়াহুর পিঠে ছুরিকাঘাত করেছেন।”

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর Hamas-এর হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে। সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার সময়ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে ওয়াশিংটনের হাতেই ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠায় অনেক ইসরাইলি হতাশ হয়েছেন। দুই নেতার সাম্প্রতিক ফোনালাপেও ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান সেই বাস্তবতাকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

গত রবিবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহু খুব কঠিন একজন মানুষ। সত্যি বলতে, এটি করার জন্য তার আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কারণ ইরানের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে ইসরাইল দুই ঘণ্টাও টিকত না।”
হোয়াইট হাউসের দাবি, নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রাখতে পারবে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলেও ওয়াশিংটনের দাবি।

তবে সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে নেতানিয়াহু সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ রূপ এখনো স্পষ্ট নয়। তার ভাষায়, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমি বহু বছর ধরে একে অপরকে চিনি। অনেক বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি এক হলেও কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমার, এবং আমি সেই দায়িত্ব পালন করব।”

অন্যদিকে, লেবাননে হিজবুল্লার বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধে ট্রাম্পের চাপের পর দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দক্ষিণ লেবাননের চলমান সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সংকট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ক্ষেত্রেও একটি বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *