যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ১৪ দফা সমঝোতা প্রকাশ, কূটনৈতিক অগ্রগতিতে নতুন আশা

Spread the news

১৮ জুন : মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও সংঘাত প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বুধবার মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বিভিন্ন ধারা তুলে ধরেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সমঝোতাটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। এরপর ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, উভয় দেশ অবিলম্বে সব ধরনের যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অঙ্গীকারও করা হয়েছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের বিষয়টিও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচির প্রশ্নে উভয় পক্ষ আপসের পথ বেছে নিয়েছে। ইরান পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। নথিতে ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ অপসারণ, বিদেশে স্থানান্তর কিংবা সংরক্ষণ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই। উল্লেখ্য, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *