দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ মে : শিলচর রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রমের উদ্যোগে শনিবার থেকে অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী “মূল্যবোধ-ভিত্তিক ক্যাম্প”। সেবাশ্রমের নীচতলার অডিটোরিয়ামে বৈদিক পাঠ ও উদ্বোধনী সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শিবিরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধ্যান পরিচালনা করেন স্বামী বৈকুণ্ঠানন্দজি। শিবিরের প্রধান সমন্বয়কারী স্বামী গণধীশানন্দজি মহারাজ ক্যাম্পের উদ্দেশ্য ও বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী জ্ঞানালোকানন্দজি “স্বামীজির শিক্ষার আলোকে ছাত্রজীবনের আদর্শ” বিষয়ক আলোচনায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বেও অংশগ্রহণ করেন।
সকালের অধিবেশনের পর চা-বিরতির সময় “প্রতিভা সন্ধান” প্রতিযোগিতার ঘোষণা করা হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন, প্রবন্ধ লেখা, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, গল্প বলা, ভক্তিগীতি, আবৃত্তি, বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন ও নাটকসহ বিভিন্ন বিভাগে নাম নথিভুক্ত করতে আহ্বান জানানো হয়। কাগজ সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন রত্না দে, রাজশ্রী পাল, রুমা পুরকায়স্থ, মহামায়া দেব, মঙ্গলাবতী ভট্টাচার্য ও পরমিতা দাস। প্রতিভা প্রদর্শনী ও প্রবন্ধ লেখার সেশন পরিচালনা করেন রাজশ্রী পাল, রত্না দে, তুহিনা চৌধুরী ও অপর্ণা দেব।
দুপুরের অধিবেশনে হরিহর চক্রবর্তী “স্বামী বিবেকানন্দের মান-গঠনের শিক্ষা” শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় গল্প বলার প্রতিযোগিতারও। পরে শিলং রামকৃষ্ণ মিশনের স্বামী হিতাকামানন্দজি “আধুনিক বিভ্রান্তির মাঝে আদর্শ ছাত্রজীবন” বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখেন।
দিনের শেষ পর্বে প্রধান অতিথিরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পুনরায় প্রতিভা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এছাড়াও আগামী দিনের উদ্বোধনী সংগীত, চিত্রাঙ্কন, কুইজসহ অন্যান্য প্রতিযোগিতার জন্য নাম নথিভুক্ত ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সেবাশ্রমের সম্পাদক ও শিবিরের প্রধান সমন্বয়কারী স্বামী গণধীশানন্দজি মহারাজ জানান, এই মূল্যবোধ-ভিত্তিক কর্মশালা ও ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ ও নীতিবোধ ছড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের সুশৃঙ্খল ও মূল্যবোধসম্পন্ন জীবন গঠনে সহায়তা করা। অনুষ্ঠানে স্বামী জ্ঞানালোকানন্দজি, স্বামী হিতাকামানন্দজি, স্বামী বৈকুণ্ঠানন্দজি, রত্না দে, রাজশ্রী পাল, রুমা পুরকায়স্থ, হরিহর চক্রবর্তীসহ অন্যান্য শিক্ষক ও সমন্বয়কারীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতি বছরের মতো এবারের শিবিরেও সরকারি ও বেসরকারি প্রায় ৪৫টি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেছে। দুইদিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও মান-গঠনের কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।



