যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি সম্পন্ন, দাবি ট্রাম্পের

Spread the news

১৬ জুন : দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার মূল কাঠামো চূড়ান্ত হয়েছে এবং চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক মাসের টানাপোড়েন ও সংঘাতের পর উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এর পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, এই সমঝোতার ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এই জলপথের গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

তবে আন্তর্জাতিক তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ও বিবিসি ভেরিফাইয়ের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলেও নৌযানের সংখ্যা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়নি। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

এদিকে, শান্তি চুক্তির ঘোষণার পর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাজারে আশাবাদী সাড়া মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সমঝোতা বিশ্ব অর্থনীতিকে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই শান্তি উদ্যোগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় লেবাননে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তেহরানও লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টিকে বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। ইসরাইল ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে, তাদের সেনাবাহিনী লেবাননের ভূখণ্ডে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বজায় রাখবে। ফলে নতুন এই সমঝোতা অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *