উজানের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় একাধিক ঘোষণা

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩১ জুলাই : শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট ও গোলাঘাট জেলার ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার অসম মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সভাপতিত্বে দিসপুরের লোকসেবা ভবনে অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক মন্ত্রিসভা বৈঠকে বন্যা মোকাবিলা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যায় বিপুল সংখ্যক দুই ও চার চাকার যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত বিমার অর্থ প্রদানের লক্ষ্যে আগামী ৫ আগস্ট সরকারি ও বেসরকারি বিমা সংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক করা হবে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত চার জেলার বিমা দাবি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া এনবিএফসি (নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্স কোম্পানি)-গুলির সঙ্গেও বৈঠক করে ঋণ পরিশোধে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ ছাড় ও সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যেই ঘোষিত ১৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা পাবে। শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্মের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে শিক্ষা দপ্তরকে ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এবং পাঠ্যপুস্তকও পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আগামী ৭ আগস্ট থেকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা শুরু হবে, যা ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীরাও পুনরায় বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন। আগস্ট মাসের মধ্যেই ক্ষতিপূরণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু শিবসাগরেই ৫৫০টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং চরাইদেওতেও বহু বিদ্যালয় বন্যার জলে ও কাদায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী ৫-৬ আগস্টের মধ্যে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়কে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ৯ আগস্ট থেকে বন্যাকবলিত এলাকার বিদ্যালয়গুলি পুনরায় চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, সেতু ও বাঁধ মেরামতের কাজ আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিবসাগর ও চরাইদেও জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্গঠনে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যোরহাট, চরাইদেও, শিবসাগর ও গোলাঘাট জেলার অরুণোদয় প্রকল্পের বন্যাকবলিত উপভোক্তারা শনিবার ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

মন্ত্রিসভায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ‘অসম কমপ্রেসড বায়োগ্যাস নীতি-২০২৬’-তে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং গুয়াহাটি ও তিনসুকিয়ায় নতুন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পশুচিকিৎসা বিভাগের ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট (ভিএফএ) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে লিখিত ও মৌখিক—উভয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া গোয়ালপাড়ার প্রস্তাবিত রাক্ষসিনী ও থারকোনলবাড়ি বনাঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *