বরাক তরঙ্গ, ১৯ আগস্ট : শিলঙে খাসি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (KSU)-এর আয়োজিত কালো পতাকা বাইক র্যালি সহিংস রূপ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংগঠনের সভাপতি-সহ তিন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে KSU সভাপতি রেমন্ড খারজানা, সহ-সভাপতি পিনকমেনলাং সানমিয়েত এবং সাধারণ সম্পাদক রুবেন নাজিয়ারকে আটক করে সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে সংগঠনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা এবং অন্যান্য অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
দিনভর চলা বিক্ষোভের পর KSU নেতৃত্ব একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে সহিংসতার বিষয়ে বক্তব্য রাখে। পুলিশ জানিয়েছে, র্যালিকে কেন্দ্র করে অন্তত ৩১টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পাথর ছোড়া, ভাঙচুর এবং সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। বহিরাজ্যের নম্বরযুক্ত গাড়িও হামলার লক্ষ্য হয়। একটি সরকারি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং যাত্রীবাহী বাস-সহ একাধিক গাড়িতে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিজেদের পাঁচ দফা দাবির প্রতি যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার প্রতিবাদে KSU এই কালো পতাকা বাইক র্যালির আয়োজন করেছিল। গত ৪ আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমার কাছে দাবিপত্র জমা দিয়ে সরকারকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছিল সংগঠনটি।
KSU-র দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মেঘালয় রেসিডেন্টস সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাক্ট (MRSSA) কার্যকর করা, রাজ্যে অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য আইন প্রণয়ন, সরকারি নিয়োগ ব্যবস্থায় সংস্কার এবং NEIGRIHMS-এ নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া।
এছাড়াও ইস্ট জয়ন্তিয়া হিলস-এ প্রস্তাবিত শ্রী সিমেন্ট প্রকল্পের ৩১ জুলাইয়ের জনশুনানি বাতিল, জনশুনানির সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিনের দাবি হিসেবে মেঘালয়ে ইনার লাইন পারমিট (ILP) চালুর দাবিও পুনরায় জানিয়েছে KSU।
তবে বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠায় শিলংয়ের বিভিন্ন এলাকায় পাথর ছোড়া, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
পুলিশের দাবি, র্যালির অনুমতির সময় যে শর্তগুলি নির্ধারণ করা হয়েছিল, সহিংসতার মাধ্যমে তা লঙ্ঘন করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ।
অন্যদিকে, KSU নেতৃত্ব ঘটনাগুলির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দাবি করেছে, কিছু দুষ্কৃতী সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, সম্পত্তি ভাঙচুর এবং তাদের আন্দোলনকে বিপথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে র্যালিতে যোগ দিয়েছিল।
রাতের দিকে KSU-র জাইয়াও কার্যালয়েও পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দিনের শুরুতে নিজেদের দাবির সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিল KSU। কিন্তু দিন শেষে ব্যাপক ভাঙচুর, হামলা, পুলিশি মামলা এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের গ্রেফতারে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয়।



