কাঁঠাল রোডে ড্রেন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, ঢালাইয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ধসে পড়ল দেওয়াল

Spread the news

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৪ অক্টোবর : শিলচর কাঁঠাল রোডের দু’পাশে ড্রেন নির্মাণের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ঢালাইয়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নবনির্মিত ড্রেনের একপাশের দেওয়াল ধসে পড়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বিশেষ করে ব্যাঙ্ক কলোনি ও লস্কর লেনের সংযোগস্থলে নির্মীয়মাণ কালভার্ট-কাম-ড্রেনের কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্ক কলোনি ও লস্কর লেনের মধ্যবর্তী এলাকায় ড্রেনের একটি অংশে ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেন ঠিকাদারের কর্মীরা। কিন্তু শুক্রবার বিকেলেই নবনির্মিত ড্রেনের একপাশের দেওয়াল ভেঙে পড়ে। ঢালাইয়ের একদিনের মধ্যেই এই ঘটনা সামনে আসায় নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান এবং কাজের পদ্ধতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণের কাজে যথাযথ মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। পাশাপাশি, কাজ শুরুর আগে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প ব্যবস্থা না করায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। রাস্তা ও ড্রেন খোঁড়াখুঁড়ির ফলে প্রতিদিন চলাচল করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিক, শিশু এবং নিত্যযাত্রীদের নিরাপদে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের তত্ত্বাবধানে চলা এই ধরনের নির্মাণকাজে গুণগত মান বজায় রাখা এবং নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। অথচ ঢালাইয়ের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়াল ধসে পড়ার ঘটনায় কাজের মান ও তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠছে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ড্রেন নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা করে দেখা হোক এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
পাশাপাশি, নির্মাণকাজ চলাকালীন সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এখন দেখার, ড্রেনের দেওয়াল ধসে পড়ার এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *