বরাক তরঙ্গ, ১১ অক্টোবর : ত্রৈমাসিক ক্রীড়া ম্যাগাজিন নতুন খেলার সময় শারদ সংখ্যার উন্মোচন হল। শনিবার মহালয়ার সন্ধ্যায় শিলচর ডিএসএ-র ক্রিকেট প্যাভিলিয়ন এই সংখ্যার আবরণ উন্মোচন করেন শিলচরের বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায়, ডিএসএ সভাপতি শিবব্রত দত্ত, সচিব অতনু ভট্টাচার্য ও প্রকাশক সমর রায়।
দেবাশিস সোমের সঞ্চালনায় মুখ্য অতিথির বক্তব্যে বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায় বলেন, শৈশব থেকে খেলাধুলোর প্রতি ঝোঁক ছিল। পেশাগতভাবে কতটা পেরেছেন পরিষ্কার নয়। তবে আজ মাঠের ডাকে সাড়া না দিয়ে পারেননি। গ্রামীণ খেলাধুলোর উন্নতির দরকার। আগামীতে শিলচরের ক্রীড়াকে কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় ভাবনার দরকার। খেলাধুলোর অজানা প্রতিবেদন পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকতাম। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভিন্ন মেরুর হলেও মাঠে-ময়দানে সবাই একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন। ক্রীড়াঙ্গনে বর্ণবিদ্বেষের অতীত কাহিনি তুলে ধরে বিধায়ক রায় উঠতিদের উৎসাহিত করার মতো প্রতিবেদনের সুপারিশ করেন। শৈশব থেকেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস ছিল তাঁর। এখনও খেলার পাতায় চোখ রাখেন। মালিকপক্ষ দু’টি পাতা বরাদ্দ করেছেন। ম্যাগাজিনের পুসকাস প্রতিবেদনের প্রশংসা করেন তিনি। ম্যাগাজিন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ডিএসএ সঙ্কটে রয়েছে। এটা উতরে যাব। এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁর উদ্যোগ থাকবে। আগামীতে ম্যাগাজিনের পাশে থাকবেন।
ম্যাগাজিনের প্রকাশক সমর রায় বলেন, বছরে দু’বার আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। ২০০৫ সাল থেকে শুরু হয়। প্রকাশনায় রয়েছি। লেখক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, অতীতে কিংবদন্তি ফুটবলার সুরজিৎ সেনগুপ্ত ও অশোক চন্দ অনুপ্রাণিত করেছেন। এছাড়া ম্যাগাজিন অব্যাহত থাকবে। সভাপতি শিবব্রত দত্ত বলেন, বছরে দু’টি সংখ্যা বের হয়। বরাকের খেলাধুলো নিয়ে লেখা হয়। উপত্যকার গ্রামীণ খেলা নিয়ে প্রতিবেদন আশা প্রকাশ করেন। বহু চেষ্টা করেও ডিএসএ-তে করতে পারেননি। এতে স্থানীয় খেলাধুলো আরও সমৃদ্ধ হবে। খো খো ও কাবাডিতে প্রতিভা রয়েছে। এদের প্রকৃত ট্রেনিং ব্যবস্থা করতে হবে। শারদ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগের সাধুবাদ জানান তিনি। স্টলে থাকলেও বিক্রি হবে। গ্রাহক পাওয়া যাবে। এতে আর্থিক দিকটা সামাল দেওয়া যায়।

সচিব অতনু ভট্টাচার্য বলেন, কয়েক বছর থেকে দেখে আসছি এই অনুষ্ঠান। মোবাইল যুগে এই উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়। ম্যাগাজিন চালু রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রাক্তন সভাপতি বাবুল হোড় বলেন, বরাকের গ্রামাঞ্চলে অনেক খেলাধুলো হয়ে থাকে। তরুণ প্রজন্মের খেলোয়াড় এতে অংশ নিয়ে থাকে। বরাকভিত্তিক প্রতিবেদন থাকে। এই ম্যাগাজিন পুজোর আবহে অক্সিজেন জোগায়। বক্তব্যে লেখক, পাঠক এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বিকাশ দেব। অনুষ্ঠানে এছাড়া উপস্থিত ছিলেন শিলচর ডিএসএ-র সহ-সভাপতি অজয় চক্রবর্তী, সহ-সচিব অরিজিৎ গুপ্ত, অজয়কুমার রায়, ইন্ডোর সচিব অনিমেষ চন্দ, তাঁর সহকারী শঙ্কর সরকার, চন্দন শর্মা, সুধাংশু দাস, ইন্ডিয়া ক্লাবের সচিব সুমন্ত দাস, প্রশান্ত চৌধুরী, সঞ্জু রায় প্রমুখ।



