৩ নভেম্বর : স্পেনের ফুটবল মাঠে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ম্যাচ চলাকালীন প্রতিপক্ষের গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে বুকে গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রাণ হারালেন ৩০ বছর বয়সি স্প্যানিশ ফুটবলার জেসুস দে মিগুয়েল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ক্লাব সিডি তেনেরিফ। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফুটবল মহলে।
স্পেনের দ্বিতীয় ডিভিশন লিগ সেগুন্ডা ডিভিশনে এফসি অ্যান্ডোরা ও সিডি তেনেরিফের মধ্যে ম্যাচ চলাকালীন ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। ২-২ গোলে শেষ হওয়া ম্যাচটির একেবারে শেষ মুহূর্তে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তেনেরিফের স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল।
ম্যাচের শেষ দিকে নিজেদের অর্ধ থেকে মিগুয়েলের উদ্দেশে বল বাড়িয়ে দেন তেনেরিফের এক ফুটবলার। সামনে তখন ছিলেন শুধু অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক জেসুস ওয়োনো। বল আটকাতে গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে আসেন তিনি। সেই সময় দু’জনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। গোলরক্ষকের হাঁটু সরাসরি মিগুয়েলের বুকে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে লুটিয়ে পড়েন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার।

প্রথমে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে না পারলেও পরে দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন মেডিক্যাল কর্মীরা। সতীর্থ ফুটবলারদের অনেকেই মাঠে হতবাক হয়ে বসে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় মিগুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ম্যাচের ১০৮ মিনিটে খেলা বাতিল ঘোষণা করা হয়। দুর্ঘটনার দৃশ্যের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
এদিকে, ঘটনার পর গভীর মানসিক যন্ত্রণার কথা জানিয়েছেন অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক জেসুস ওয়োনো। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, গতকাল থেকে এক মুহূর্তের জন্যও ঘুমাতে পারেননি তিনি। বারবার দুর্ঘটনার সেই মুহূর্ত তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠছে। সময়কে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলে তিনি তা করতেন বলেও জানান।
ওয়োনোর কথায়, “তাঁকে আঘাত করার কোনও ইচ্ছা আমার ছিল না। এটি ছিল ফুটবল মাঠের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কখনও ভাবিনি, এমন একটি ঘটনা এত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে খুনি ও হত্যাকারী বলে আক্রমণ করার প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন ওয়োনো। তিনি বলেন, মানুষের ক্ষোভ ও যন্ত্রণা তিনি বুঝতে পারছেন। তবে এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের মতো মর্মাহত আর কেউ হতে পারেন না।
জেসুস দে মিগুয়েলের পরিবার, সতীর্থ এবং অনুরাগীদের কাছে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে ওয়োনো বলেন, যা ঘটে গিয়েছে, তা বদলে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। এই মুহূর্ত তিনি কোনও দিন ভুলতে পারবেন না। প্রয়াত ফুটবলারের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করেন তিনি।
একটি ফুটবল ম্যাচের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ যে এভাবে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তা মেনে নিতে পারছেন না খেলোয়াড় থেকে শুরু করে সমর্থক—কেউই।



