ভূপেনের গানে সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা, জন্মশতবর্ষে শিলচরে স্মরণসভা

Spread the news

পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৮ অক্টোবর : ভারতরত্ন সুধাকণ্ঠ ড. ভূপেন হাজরিকার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার শিলচরের ইলোরা হেরিটেজ হলে অনুষ্ঠিত হল এক স্মরণসভা। ড. ভূপেন হাজরিকা ফ্যানস অ্যাসোসিয়েশন, অসম-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিল্পীর জীবন, কর্ম ও সৃষ্টির পাশাপাশি তাঁর গানে প্রতিফলিত মানবতা, ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আলোচনা করেন বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি ড. হারাণ দে ভূপেন হাজরিকার জীবন ও কর্মের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি শিল্পীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করেন। সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক রিতু নাহা ভূপেন হাজরিকার সৃষ্টিকর্ম ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

প্রধান অতিথি ‘সাময়িক প্রসঙ্গ’-এর সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরী বলেন, ভূপেন হাজরিকার গান শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলার শক্তিশালী মাধ্যম ছিল। ভাষা আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে ভূপেন হাজরিকা ও হেমন্ত বিশ্বাসের ভূমিকার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, গানের মাধ্যমেই ভূপেন হাজরিকা বৃহত্তর অসমের মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

সুপ্রভা রাজকুমারী ভূপেন হাজরিকার সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়ার পুরনো স্মৃতি স্মরণ করেন এবং তাঁর রচিত কবিতা পাঠ করেন। কস্তুরী হোম চৌধুরী শিল্পীর জীবন ও সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা নিয়ে আলোচনা করেন। সুনীল রায় তাঁর শিক্ষকজীবনের সময়কার ভূপেন হাজরিকা-সম্পর্কিত কিছু ব্যক্তিগত স্মৃতিও তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, ভূপেন হাজরিকার গান কোনও নির্দিষ্ট ভাষা, জাতি বা ভূখণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর সৃষ্টিতে মানুষে মানুষে ঐক্য, সাম্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির যে বার্তা রয়েছে, তা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। জন্মশতবর্ষে তাঁকে স্মরণ করার অর্থ তাঁর মানবিকতার আদর্শ ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা।
অনুষ্ঠানে রিতু নাহার পরিচালনায় সঙ্গীত পরিবেশন করেন শ্রাবণী সরকার, মধু পারখ মধুলিকা, বিশ্বরূপা পুরকায়স্থ, নগেন্দ্র কিশোর সিনহা ও রিতু নাহা। কবিতা পাঠ করেন সুপ্রভা রাজকুমারী। তবলায় সহযোগিতা করেন বিশ্বজিৎ সাহা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *