দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২০ মে : বাংলা ভাষা আন্দোলনের একমাত্র নারী শহিদ কমলা ভট্টাচার্য-এর জীবন, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে কেন্দ্র করে নির্মিত হতে যাচ্ছে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘কমলা’। বুধবার শিলচরের ইলোরা হোটেলে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে চলচ্চিত্রটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নির্মাণ পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়।
সম্মেলনে প্রযোজনা সংস্থা SS Entertainment-এর পক্ষ থেকে নির্বাহী সুমন চক্রবর্তী ও সুদীপ্ত ঘোষ চলচ্চিত্রটির লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা রামেশ ভান্দারি এবং ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’-এর পরিচালক। সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন সুদীপ্ত ঘোষ।
নির্মাতারা জানান, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাস সংরক্ষণ এবং ভাষা আন্দোলনের বিস্মৃত অধ্যায় নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই চলচ্চিত্রের মূল উদ্দেশ্য। কলকাতা, আসাম ও ঢাকাসহ ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে সিনেমাটির শুটিং হবে। যদিও চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনি ১৯৬১ সালের শিলচরের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিত হবে, তবুও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও এতে তুলে ধরা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বাংলাদেশের এক খ্যাতিমান পরিচালক বলেন, বাংলা ভাষার ইতিহাস কোনও আঞ্চলিক বিষয় নয়; এটি সমগ্র বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়ের অংশ। সেই ইতিহাস আগামী প্রজন্মের কাছে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ‘কমলা’ নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাতারা স্পষ্ট করে জানান, এটি কোনও প্রামাণ্যচিত্র নয়; বরং ভাষাভিত্তিক মানুষের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত কাহিনিনির্ভর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬১ সালে বরাক উপত্যকায় মাতৃভাষার দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, সেই সংগ্রামে আত্মবলিদান দেওয়া ১১ ভাষা শহিদের ইতিহাসও চলচ্চিত্রে গুরুত্ব পাবে।
চলচ্চিত্রটিতে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। শিলচরের নাট্যকর্মী ও অভিনয়ে আগ্রহী শিল্পীদের জন্য মাসিক অডিশনের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ঢাকা ও কলকাতাতেও অডিশন নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষাভিত্তিক অনুভূ



