গর্তের দখলে শিলচর-আসাম বিশ্ববিদ্যালয় সড়ক, চরম দুর্ভোগে ছাত্র-শিক্ষক ও স্থানীয়রা, ক্ষোভ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২০ মে : শিলচর থেকে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়গামী সড়কের শিলকুড়ি এলাকা ভয়ঙ্কর ভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিলকুড়ি ডাকঘরের সামনে থেকে শিলকুড়ি ক্যাম্প পর্যন্ত বিশাল বিশাল গর্তের সমাহারে নিত্যযাত্রীদের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ছাত্র-শিক্ষক, নিত্যযাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যাতায়াত কার্যত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির জলে গর্তগুলি কাদাজলে ভরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু রাস্তার করুণ অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ছোট গাড়ি থেকে শুরু করে অটোরিকশা ও বাইক চালকদের নিত্যদিন দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ইতিমধ্যেই একাধিক ছোটখাটো দুর্ঘটনার খবরও সামনে এসেছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। কাদামাখা গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়শই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে এই সড়কের মেরামতি ও রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আসাম বিশ্ববিদ্যালয় এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এই সড়কটি হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাছাড়া প্রায় প্রতিদিনই কোনও না কোনও সেমিনার কিংবা আলোচনাচক্র আয়োজিত হচ্ছে এই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং এতে অংশ নিতে এখানে আসছেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্টজনেরা। তাই নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক নিশ্চিত করা অবশ্যই জেলা প্রশাসনের দায়িত্ব।

এলাকাবাসী সহ নিত্যযাত্রী পড়ুয়াদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে জরুরি ভিত্তিতে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করবেন। এদিকে, এই সড়ক দিয়েই আইরংমারায় নিজের বাসভবনে নিয়মিত যাতায়াত করছেন শিলচরের সাংসদ পরিমল শুক্লবৈদ্য। অথচ সড়কের এই ভয়ংকর পরিস্থিতি কীভাবে তাঁর নজর এড়িয়ে যাচ্ছে, তাও সাধারণ জনগণ সহ পড়ুয়াদের বোধগম্য হচ্ছে না। এলাকার নবনির্বাচিত বিধায়ক সহ অন্য জনপ্রতিনিধিদের এব্যাপারে অবিলম্বে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *