অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তে বন বিভাগের শিবিরে হামলা: তীব্র প্রতিক্রিয়া আসুর

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৩১ মে : অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তবর্তী উরিয়ামঘাটের দৈয়াং নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলন রোধে গিয়ে হামলার শিকার হলো বন বিভাগের অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ শিবির। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে সদৌ অসম ছাত্র সংস্থা (আসু)। একইসঙ্গে সীমান্ত উন্নয়ন মন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।

জানা গেছে, অবৈধ পাথর খনন বন্ধ করার লক্ষ্যে সম্প্রতি ওই এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন অসম বন বিভাগের মুখ্য সচিব এমকে যাদব। তাঁর নির্দেশ অনুসারে সেখানে বনরক্ষী ও সিআরপিএফ সদস্যদের নিয়ে একটি অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ শিবির স্থাপন করা হয়। অভিযোগ, এরপরই শতাধিক নাগা দুষ্কৃতকারী ওই শিবিরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
উল্লেখ্য, সরুপথার মহকুমার অন্তর্গত অসম-নাগাল্যান্ড সীমান্তের খেরবাড়ি এলাকায় শনিবার বিকেলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুনরায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুষ্কৃতকারীরা আচমকা বন বিভাগের টহলদারি শিবিরে হামলা চালায়। শুধু হামলাতেই ক্ষান্ত না থেকে তারা শিবিরটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলে এবং পরে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।

হামলার সময় শিবিরে উপস্থিত শ্রমিকসহ বন বিভাগের প্রায় সাতজন কর্মী কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পর থেকেই সমগ্র সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আছুর ধনশিরি মহকুমা কমিটির সভাপতি বিকাশ বড়া বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। বিভাগীয় মুখ্য সচিব এলাকা পরিদর্শন করার পর বন বিভাগ একটি অস্থায়ী পর্যবেক্ষণ শিবির স্থাপন করেছিল। কিন্তু তার কিছুদিনের মধ্যেই নাগা দুষ্কৃতকারীরা এসে সেই শিবির ভেঙে তছনছ করে দেয়। এত কিছুর পরও দুষ্কৃতকারীদের বা উগ্রপন্থীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

তিনি আরও বলেন, “অসমের ভূমি যাতে নাগাল্যান্ডের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত না হয় কিংবা নাগা দুষ্কৃতকারীদের দখলে না যায়, সে বিষয়ে ছাত্র সংস্থা অতীতেও সতর্ক করেছে এবং এখনও একই দাবি জানাচ্ছে। এই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা অসম সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।”

সীমান্ত উন্নয়ন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিকাশ বড়া বলেন, “সীমান্ত উন্নয়ন মন্ত্রী নিজেই গোলাঘাট জেলার মানুষ এবং বোকাখাতের বিধায়ক। কিন্তু আজ পর্যন্ত সীমান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশিত ভূমিকা দেখা যায়নি। সীমান্ত অঞ্চলে ঘটে চলা ঘটনাগুলির যথাযথ তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব তাঁর থাকলেও সেই ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। তাই নৈতিক দায়িত্ব স্বীকার করে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “অসমের ভূমি ও ভূখণ্ড যাতে কোনওভাবেই নাগা দুষ্কৃতকারীদের দখলে না যায়, সে বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আমরা অসম সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *