১৬ জুলাই : আজ পবিত্র রথযাত্রা উপলক্ষে ভোর থেকেই ওড়িশার পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির চত্বরে উপচে পড়েছে ভক্তদের ভিড়। দেশ-বিদেশ থেকে কয়েক লক্ষ পুণ্যার্থী এই মহোৎসবে অংশ নিতে পুরীতে পৌঁছেছেন। বিকেল ৪টেয় লক্ষ লক্ষ ভক্তের উপস্থিতিতে শুরু হবে রথ টানা। জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা পৃথক তিনটি রথে চেপে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। উৎসবকে ঘিরে শহরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা এবং বিশেষ যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
ভোর ৬টায় মঙ্গল আরতির মাধ্যমে দিনের আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে মৈলম, তড়প লাগি, রোষ হোম, অবকাশ, সূর্যপুজো, দ্বারপাল পুজো এবং সকালের ভোগের মতো বিভিন্ন নীতিকর্ম সম্পন্ন হবে। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হবে ‘পাহান্ডি’ পর্ব, যেখানে গর্ভগৃহ থেকে দেবমূর্তিগুলিকে রথে আনা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে এই আচার শেষ হওয়ার কথা। পরে ‘ছেরা পাহানরা’সহ অন্যান্য রীতি সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল ৪টেয় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে রথ টানা।
হিন্দু ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, বছরে একবার জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা শ্রীমন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরে গমন করেন। গুণ্ডিচা মন্দিরকে তাঁদের মাসির বাড়ি হিসেবে মানা হয়। এই যাত্রাই রথযাত্রা নামে পরিচিত। এদিন ভক্তদের কাছে দেবতারাই মন্দির থেকে বেরিয়ে এসে দর্শন দেন, যা এই উৎসবকে বিশেষ তাৎপর্য প্রদান করে।
পুরীর রথযাত্রার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতি বছর নতুন কাঠ দিয়ে তিনটি নতুন রথ নির্মাণ করা হয়; আগের বছরের রথ পুনরায় ব্যবহার করা হয় না। এছাড়া রথের দড়ি টানার ক্ষেত্রে ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের কোনও ভেদাভেদ নেই। সকলের অংশগ্রহণে এই উৎসব সম্প্রীতি, সমতা ও সর্বজনীনতার বার্তা বহন করে।



