‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে কুৎসা নয়, ইতিহাস জানুন: সুজিত তেওয়ারি

Spread the news

দেড়শো বছর পূর্তিতে শ্রীগৌরী মাধব ধামে ‘নমামি ভারতম’ কর্মসূচি, সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত বন্দেমাতরম______

শমীন্দ্ৰ পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ সেপ্টেম্বর : রাষ্ট্র গীত ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার দেশজুড়ে পালিত হলো ‘নমামি ভারতম’ কর্মসূচি। বিদ্যাভারতী অখিল ভারতীয় শিক্ষা সংস্থার উদ্যোগে শ্রীগৌরী মাধব ধাম সরস্বতী বিদ্যানিকেতনের ব্যবস্থাপনায় এদিন বেলা ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘বন্দেমাতরম’। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক এবং এলাকার বিশিষ্ট নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ভারতমাতা ও ওঙ্কার-সরস্বতীর প্রতিকৃতির সামনে প্রদীপ প্রজ্বলন এবং পুষ্পার্ঘ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে। এরপর সমবেত কণ্ঠে সরস্বতী বন্দনা পরিবেশন করা হয়। অতিথিদের মঙ্গল তিলক পরিয়ে উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিলচর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. সুজিত তেওয়ারি। বক্তব্যে তিনি ‘বন্দেমাতরম’-এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই গান দেশবাসীর মধ্যে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল। তাঁর বক্তব্য, ‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে যারা কুৎসা রটান, তাঁদের ইতিহাস সম্পর্কে আরও জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন।

ড. তেওয়ারি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ‘বন্দেমাতরম’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে এই গানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং তৎকালীন জাতীয় আন্দোলনে এর ব্যবহারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন কংগ্রেসের বিভিন্ন সভাতেও ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশিত হতো এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে এই গান সাহস ও আত্মত্যাগের প্রেরণা জুগিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘বন্দেমাতরম’ দেশের সাংবিধানিক স্বীকৃত জাতীয় গান এবং এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে ধর্মীয় বিভাজনের দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়। স্বাধীনতা সংগ্রামের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেও এই গান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান আচার্য চিত্রালী ধর তাঁর বক্তব্যে ‘বন্দেমাতরম’-এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্থান পাওয়া এই গান পরবর্তীকালে স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, গানের প্রতিটি শব্দে দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশাত্মবোধের প্রকাশ রয়েছে। চিত্রালী ধর জানান, বিদ্যাভারতীর উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে একই সময়ে, একই সুর ও তালে সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশাত্মবোধ ও ঐতিহাসিক চেতনা জাগিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কেশব স্মারক সমিতি ও সরস্বতী বিদ্যানিকেতনের সভাপতি মৃদুল কুমার ধর এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ভানু রঞ্জন দাস। উপস্থিত ছিলেন স্বপন শুক্লবৈদ্য, সত্যজিৎ দাস, শাশ্বতী চক্রবর্তী, জেলা পরিষদ সদস্য অর্চনা সরকার দত্ত, বিশিষ্ট আইনজীবী বিশ্ববরণ বড়ুয়া, কালাচাঁদ জিপি সভাপতি দেবজ্যোতি দে, কাঞ্চন দাস, বিক্রমজিৎ পাল, সঞ্জিত পাল, মণ্ডল সভাপতি অশোক কুমার দাস-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য উপস্থিত বিশিষ্টজনদের সংবর্ধনা জানানো হয়। শিক্ষিকা সঞ্জু চক্রবর্তী, মৌসুমী দে, আরতি চন্দ্র ও বিভাস ধর অনুষ্ঠানের আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতা করেন। সাংস্কৃতিক পর্বে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি ভাবগম্ভীর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *