মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৪ সেপ্টেম্বর : বারাক উপত্যকার প্রত্যন্ত এলাকার খুদে ভলিবল প্রতিভাদের প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে ধলছড়ায় অনুষ্ঠিত হল তিন দিনব্যাপী জেলা-স্তরের অনূর্ধ্ব-১৭ ভলিবল প্রতিযোগিতা ‘স্পন্দন লিগ–২০২৬’। বিএসএফের ৭৫ ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বালক ও বালিকা বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৬টি দল অংশ নেয়। ১ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া প্রতিযোগিতার সমাপ্তি হয় ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। প্রতিযোগিতাকে ঘিরে ধলছড়া বিএসএফ ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। খুদে খেলোয়াড়দের দাপুটে পারফরম্যান্স, টানটান উত্তেজনা এবং প্রতিটি ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াই দর্শকদেরও আকৃষ্ট করে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, শারীরিক সক্ষমতা ও দলগত চেতনা গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সমাপ্তি ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিলচর সেক্টরের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বলবন্ত সিং নেগি। তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের নিষ্ঠা, ক্রীড়াসুলভ মনোভাব ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার প্রশংসা করেন। তরুণ খেলোয়াড়দের ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার জন্য উৎসাহিত করেন তিনি। একইসঙ্গে বারাকের তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য এমন একটি মঞ্চ তৈরি করায় ৭৫ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন।

বালিকা বিভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে চ্যাম্পিয়ন হয় ডন বস্কো স্পোর্টস ট্রেনিং সেন্টার। রানার্স-আপ হয় সেন্ট ক্যাপিটাও স্কুল, আর তৃতীয় স্থান অর্জন করে সিদ্ধেশ্বর অসমীয়া ভলিবল অ্যাকাডেমি, কাটিগড়া।

বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়নের মুকুট ওঠে শ্রীকোনা ভলিবল অ্যাকাডেমির মাথায়। রানার্স-আপ হয় সোনাই ভলিবল কোচিং সেন্টার এবং তৃতীয় স্থান দখল করে ডন বস্কো স্পোর্টস ট্রেনিং সেন্টার।
চ্যাম্পিয়ন, রানার্স-আপ ও তৃতীয় স্থানাধিকারী দলকে যথাক্রমে ২৪ হাজার, ১২ হাজার ও ৬ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হয়। পাশাপাশি ট্রফি, পদক ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে পৌঁছানো দলগুলোকেও স্মারক সামগ্রী দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

আয়োজকদের মতে, ‘স্পন্দন লিগ–২০২৬’ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং বারাক উপত্যকার নতুন প্রজন্মের প্রতিভা খুঁজে বের করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত পরিকাঠামো ও উপযুক্ত সুযোগ পেলে এই খুদে খেলোয়াড়রাই আগামী দিনে জেলা, রাজ্য এমনকি জাতীয় স্তরে নিজেদের পরিচিতি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিএসএফ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।



