শিলচরের ন্যায্য দাবি, এবার কি মিলবে মন্ত্রিত্ব?

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১১ মে, সোমবার,
সমের রাজনৈতিক মানচিত্রে শিলচর শুধুমাত্র একটি শহরের নাম নয়; বরং বরাক উপত্যকার প্রাণকেন্দ্র। প্রশাসন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বাণিজ্য— প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিলচরের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ এই শহরটি গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজ্য মন্ত্রিসভায় কোনও প্রতিনিধিত্ব না পাওয়া নিঃসন্দেহে এক গভীর রাজনৈতিক বঞ্চনার প্রতীক। ১৯৮৫ সালের পর থেকে শিলচরের কোনও বিধায়ক মন্ত্রী না হওয়া শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং শিলচরবাসীর দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও উপেক্ষার ইতিহাস।

অসমের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হওয়া সত্ত্বেও শিলচরের প্রতি এই অবহেলা বারবার প্রশ্ন তুলেছে— রাজ্যের ক্ষমতার কেন্দ্র কি বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক গুরুত্বকে যথাযথ মর্যাদা দিতে ব্যর্থ? বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিধায়ক নির্বাচিত হলেও মন্ত্রিত্বের ক্ষেত্রে শিলচরকে উপেক্ষা করা হয়েছে। কখনও দলীয় সমীকরণ, কখনও আঞ্চলিক ভারসাম্যের অজুহাতে এই শহরের দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

এই প্রেক্ষাপটে সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক ডাঃ রাজদীপ রায়ের নাম স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় উঠে এসেছে। বিপুল ভোটে তাঁর জয় প্রমাণ করেছে যে শিলচরের মানুষ তাঁর উপর আস্থা রেখেছেন। প্রায় ৫৫ হাজার ভোটের ব্যবধান কেবল নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং একটি শক্তিশালী জনমতের প্রতিফলন। মানুষ চাইছেন, এই বিজয়ের মাধ্যমে শিলচরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটুক।

অবশ্যই মন্ত্রিত্ব দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে দলের নেতৃত্বের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে, বরাক উপত্যকার বৃহত্তম শহরকে আর উপেক্ষা করা সমীচীন হবে না। অসমের সার্বিক উন্নয়নের কথা ভাবলে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার পাশাপাশি বরাক উপত্যকার প্রতিনিধিত্বও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

শিলচরের মানুষ আজ কোনও অতিরিক্ত সুবিধা চাইছেন না; তাঁরা চাইছেন তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা। দীর্ঘ ৪১ বছরের অপেক্ষার পর সেই দাবি আর অযৌক্তিক বলে মনে হয় না। এখন দেখার, নতুন সরকার এই জনআবেগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে কতটা গুরুত্ব দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *