হাইকোর্ট বেঞ্চের দাবি যুক্তিসঙ্গত ও সময়োপযোগী

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৪ মে, সোমবার,
রাক উপত্যকার মানুষের কাছে উচ্আ আদালতে ন্যায়বিচার আজও এক দূরপাল্লার যাত্রা। একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে তাঁদের প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গুয়াহাটি পৌঁছাতে হয়। এই দীর্ঘ পথযাত্রা শুধু সময়সাপেক্ষই নয়, বরং ব্যয়বহুলও বটে। যাতায়াত, আবাসন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে সাধারণ মানুষের উপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়, তা বিশেষ করে গ্রামীণ ও আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির জন্য প্রায় অসহনীয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন মামলাকারীরা নিজেদের এলাকার আইনজীবীদের ওপর নির্ভর করেন। তাঁদের গুয়াহাটি নিয়ে যেতে অতিরিক্ত বিমানভাড়া বহন করতে হয়, যা খরচকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ভাষাগত সমস্যাও এক বড় অন্তরায়। বরাক উপত্যকায় বাংলা ভাষা প্রধান হলেও গুয়াহাটিতে অসমিয়া ভাষার প্রাধান্য থাকায় অনেকেই সঠিকভাবে নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন না। ফলে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে।
দেওয়ানি মামলাগুলির ক্ষেত্রে একাধিক শুনানির প্রয়োজন হওয়ায় এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। বারবার গুয়াহাটি যাওয়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না, যার ফলে অনুপস্থিতির কারণে মামলা খারিজ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, গৌহাটি উচ্চ ন্যায়ালয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ মামলাই বরাক উপত্যকা থেকে আসে। অর্থাৎ এই অঞ্চল বিচারিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ এখানকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পেতে এতটা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, যা কোনওভাবেই কাম্য নয়।

এই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে শিলচরে গৌহাটি উচ্চ ন্যায়ালয়ের একটি আঞ্চলিক বেঞ্চ স্থাপনের দাবি নিঃসন্দেহে যুক্তিসঙ্গত এবং সময়োপযোগী। এতে যেমন বরাক উপত্যকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে, তেমনই মূল আসনের উপর মামলার চাপও কমবে।

“হাইকোর্ট বেঞ্চ ডিমান্ড কমিটি, কাছাড় জেলা”-র উদ্যোগে এই দাবির পক্ষে জনসমর্থন ক্রমশ জোরদার হচ্ছে। বরাক উপত্যকায় একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন আর বিলম্ব না করে বাস্তবায়ন করা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *