১১ মে : বিশ্বজুড়ে করোনা-স্মৃতির আবহে এবার নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হান্টা ভাইরাস’ (Hantavirus outbreak)। আর্জেন্টিনা থেকে আসা এমভি হন্ডিয়াস নামক এক প্রমোদতরীতে আট জন আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে, যার মধ্যে দুই জন ভারতীয় নাগরিক। তবে রবিবার স্পেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে আশ্বস্ত করেছে যে, আক্রান্ত দুই ভারতীয়ই বর্তমানে উপসর্গহীন এবং স্থিতিশীল।
বিবৃতি অনুযায়ী, ওই জাহাজে ক্রু হিসেবে কর্মরত দুই ভারতীয় নাগরিককে ইতিমধ্যেই নেদারল্যান্ডে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে তাঁদের নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, “স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ এবং ওই দুই নাগরিকের সঙ্গে আমরা নিবিড় যোগাযোগ রাখছি। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই জাহাজে মোট আট জন আক্রান্তকে শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ৬ এপ্রিল প্রথম সংক্রমণের খবর মেলে এবং ১১ এপ্রিল প্রথম আক্রান্তের মৃত্যু হয়। সংক্রমণের ভয়াবহতা বিচার করে হু ইতিমধ্যেই আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি, সিঙ্গাপুর এবং সুইৎজারল্যান্ড-সহ ১২টি দেশকে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। প্রমোদতরীর যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই বিভিন্ন দেশে নেমে যাওয়ায় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও আতঙ্ক বাড়ছে, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি ও অতিমারি বিভাগের ডিরেক্টর মারিয়া ফন কেরখোডে জানিয়েছেন, হান্টা ভাইরাস করোনা ভাইরাসের মতো ভয়াবহ নয়। সংক্রমণের মাত্রাও তুলনামূলক অনেক কম। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে জানিয়েছেন।
হু-এর প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস জানিয়েছেন, মূলত ইঁদুর বা এই জাতীয় প্রাণীর মূত্র, লালারস বা চোখের জল থেকে এই সংক্রমণ ছড়ায়। সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সরাসরি সংস্পর্শে থাকলে বা একই বাড়িতে বাস করলে তবেই অন্য কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। মূলত লাতিন আমেরিকাতেই এই ভাইরাসের প্রকোপ বেশি দেখা যায়।



