ধেমাজিতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, জোনাইয়ের একাধিক গ্রাম প্লাবিত

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২১ জুন: অবিরাম বর্ষণের জেরে ধেমাজি জেলার বিভিন্ন এলাকা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। বিশেষ করে জোনাই বিধানসভা এলাকার একাধিক গ্রাম বন্যার জলে প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাহির চিলে নদীর ফুলেফেঁপে ওঠা জল ঘরবাড়ি, কৃষিজমি এবং যোগাযোগের পথঘাট ডুবিয়ে দেওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্যাকবলিত মানুষের অভিযোগ, জোনাই মহকুমা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যাপ্ত খোঁজখবর নেওয়া হয়নি।
হঠাৎ নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় শান্তিপুর, মালভোগসহ কয়েকটি গ্রামে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চারদিক জলমগ্ন হয়ে পড়ায় বহু পরিবার নৌকার সাহায্যে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি জলের নিচে চলে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বন্যাদুর্গতরা জানিয়েছেন, গবাদিপশু রক্ষা করা এবং খাদ্যের ব্যবস্থা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিক্ষেত্র। বাহির চিলে নদীর জল ধানখেত ডুবিয়ে দেওয়ায় কৃষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত জল না নামলে অধিকাংশ ধান নষ্ট হয়ে যাবে। পাশাপাশি জল সরে গেলেও বীজ ও চারা সংকটের কারণে পুনরায় চাষাবাদ কীভাবে শুরু হবে, তা নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত ধানের চারা সরবরাহের দাবি জানানো হয়েছে প্রশাসনের কাছে।

এদিকে, অসম ও অরুণাচল প্রদেশে অব্যাহত ভারি বৃষ্টির ফলে দেপী নদীও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। নদীভাঙনের কারণে জোনাইয়ের নদীতীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু পরিবারের বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং মূল্যবান সম্পত্তি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রামধন দিখারী গাঁও পঞ্চায়েতের জামুগুড়ি ও উলুৱনী অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দিখারী নদীর বন্যার জল জোনাই রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত রামধন দিখারী গাঁও পঞ্চায়েতের অন্তত ১৫টিরও বেশি গ্রাম জলমগ্ন করে ফেলেছে।

শনিবার জোনাই বিধায়ক ভুবন পেগু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে দ্রুত নদীভাঙন রোধে পারকুপাইন পদ্ধতিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, অস্থায়ী ত্রাণশিবির নির্মাণ এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *