বরাক তরঙ্গ ২৩ জুন : মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সভাপতিত্বে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয় অসম সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠক। বৈঠকে রাজ্যের উন্নয়ন, শিক্ষা, শিল্প এবং পর্যটন খাতকে কেন্দ্র করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলির বিস্তারিত তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রিসভায় অসম বিধানসভার অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য একাধিক আইনি সংশোধনী ও প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রেও জমির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় ব্যক্তিগত বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে এখন ৩৫ বিঘা জমি যথেষ্ট হবে, যেখানে আগে ৬০ বিঘা জমির প্রয়োজন ছিল। শহরাঞ্চলে এই পরিমাণ ৩০ বিঘা থেকে কমিয়ে ২১ বিঘা করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত বিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রেও জমির শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এলপি (প্রাথমিক) ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য প্রয়োজনীয় জমির পরিমাণ ৬ বিঘা থেকে কমিয়ে ৩ বিঘা করা হয়েছে। শহরাঞ্চলে বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য জমির ন্যূনতম পরিমাণ ২ বিঘা থেকে কমিয়ে ১ বিঘা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পর্যটন খাতকে উৎসাহিত করতে হোমস্টে সংক্রান্ত নীতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবার থেকে কৃষিজমিতে ক্ষুদ্র ও খাদি শিল্প স্থাপন করতে জেলা কমিশনারের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। একইসঙ্গে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য সৌর প্যানেল বসানোর অনুমতিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইনে পোর্টালের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। আগে কৃষিজমি অ-কৃষি কাজে ব্যবহার করতে জেলা প্রশাসনের অনুমতি বাধ্যতামূলক ছিল।
এছাড়া কৃষিজমিকে অ-কৃষি জমিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনে সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের হোমস্টেগুলিকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন করতে হবে এবং প্রতি তিন বছর অন্তর সেই নিবন্ধন নবীকরণ করতে হবে। পাশাপাশি হোমস্টেতে কক্ষের সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ৮ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হোমস্টের মালিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্যও একটি বিশেষ নীতি প্রণয়নের কথা ঘোষণা করেছে সরকার।
মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তগুলিকে শিল্প, শিক্ষা ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


