বরাক তরঙ্গ, ২৯ জুন : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলিতে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি কোর্স চালুর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা দূর করার দাবিতে রবিবার রবীন্দ্র সদন গার্লস কলেজের অধ্যক্ষের কাছে স্মারকপত্র প্রদান করেছে অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (এআইডিএসও)-এর করিমগঞ্জ জেলা কমিটি। জেলা সভাপতি সুজিতকুমার পাল, জেলা সম্পাদক সঞ্চিতা শুক্ল, রাজ্য ও জেলা কমিটির সদস্য জয়দীপ দাস এবং সুবৃতি কোঁহারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চার বছরের স্নাতক পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন সমস্যা ও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। স্মারকপত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি)-২০২০ অনুসরণ করে পর্যাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার ও অন্যান্য পরিকাঠামো গড়ে না তুলেই চার বছরের স্নাতক কোর্স চালু করা হয়েছে। ফলে অধিকাংশ কলেজে শিক্ষক সংকট, অপর্যাপ্ত পরিকাঠামো এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নে নানা সমস্যার মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। সংগঠনের অভিযোগ, গ্রামীণ এলাকার বহু কলেজে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত নেই এবং সীমিত সংখ্যক শিক্ষকের ওপর একাধিক বিভাগের পাঠদানের দায়িত্ব বর্তেছে।
এআইডিএসও আরও প্রশ্ন তোলে, তিন বছর আগে থেকেই চতুর্থ বর্ষ চালুর সিদ্ধান্ত জানা থাকলেও সরকার কেন প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়নি। সংগঠনের দাবি, ইউজিসির নির্দেশিকা অনুযায়ী অনার্স উইথ রিসার্চ কোর্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পিএইচডিধারী শিক্ষকও অধিকাংশ কলেজে নেই।
এআইডিএসও স্মারকপত্রে চার দফা দাবি উত্থাপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তিন বছরের স্নাতক (মেজর) উত্তীর্ণদের সার্টিফিকেটে “মেজর সহ উত্তীর্ণ” উল্লেখ করা, যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত স্নাতকোত্তর আসনের ব্যবস্থা করা, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পুনরায় তিন বছরের স্নাতক কোর্স চালু করা এবং চতুর্থ বর্ষে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে শিক্ষক, ছাত্র সংগঠন, শিক্ষাবিদ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ। পাশাপাশি, এই দাবিগুলির সমর্থনে শিক্ষানুরাগী, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠন।



