মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ আগস্ট : বিজেপির বুথ সভাপতি বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত শ্রীভূমি জেলার বাজারিছড়া। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর যোগীছড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের পরই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতার একাংশের বিরুদ্ধে একাধিক দোকান ও বাড়িতে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাজারিছড়া ও সংলগ্ন এলাকায় জোরদার করা হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লোয়াইরপোয়া মণ্ডলের বাজারিছড়া জিপির ছাগলমোয়া গ্রামের বাসিন্দা বিকাশ ধর কয়েকদিন আগে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে শ্রীভূমি জেলা পুলিশ। গঠন করা হয় বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। মোবাইল ফোনের তথ্য, গোয়েন্দা সূত্র, স্থানীয় তথ্য এবং বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে চলে অনুসন্ধান।

শুক্রবার যোগীছড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিকাশ ধরের মরদেহ উদ্ধারের পর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাজারিছড়া, ছাগলমোয়া ও আশপাশের এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, উত্তেজিত জনতার একাংশ বাজারে বিক্ষোভের পাশাপাশি কয়েকটি দোকান ও বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে কিছু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অন্যত্র চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান শ্রীভূমির এসএসপি লীনা দোলে-সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাজারিছড়া, ছাগলমোয়া, যোগীছড়া ও সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড়সড় অগ্রগতির কথা জানিয়েছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত আব্দুল হক-সহ মোট ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তদন্ত চলাকালীন পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে আব্দুল হকের পায়ে গুলি করা হয় বলে জানা গেছে। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এসএসপি নীলা দোলে জানান, বিকাশ ধর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালানো হয়। ফরেনসিক আলামত, কল ডিটেইলস, ডিজিটাল তথ্য এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সিনিয়র পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার এবং প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আবেদন জানান।

নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।
হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ঘটনাগুলিও পৃথকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বাজারিছড়ায় থমথমে পরিস্থিতি। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বিকাশ ধর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং পরবর্তী হিংসার ঘটনায় কারা জড়িত—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।



