১৪ আগস্ট: জাপানের রাজধানী টোকিওর পার্শ্ববর্তী চিবা প্রদেশে রেকর্ড পরিমাণ ভারি বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে বিস্তীর্ণ এলাকা জলের নিচে চলে যায়। ডুবে যায় বহু সড়ক ও রেলপথ, ঘরবাড়িতে ঢুকে পড়ে বন্যার জল। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত দুর্যোগে অন্তত চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। একজন নিখোঁজ এবং আরও একজন গুরুতর আহত অবস্থায় রয়েছেন।
চিবার বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কোনও কোনও এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টাতেই ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাপান আবহাওয়া সংস্থা একাধিক এলাকায় সর্বোচ্চ মাত্রার ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে।
অতি ভারি বর্ষণে চিবা, ইচিকাওয়া, কাশিওয়া ও সাকুরাসহ বিভিন্ন এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়। রাস্তায় আটকে পড়ে অসংখ্য যানবাহন। কোথাও কোথাও বন্যার জল গাড়ির জানালা পর্যন্ত উঠে যায়। পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে আশঙ্কায় প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বন্যার কারণে বিদ্যুৎ পরিষেবাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে চিবা ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৬৮ হাজার বাড়ি বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। শুক্রবার সকালে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও প্রায় ২৩ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফেরেনি।
উদ্ধার ও ত্রাণকাজে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি জাপানের স্থল আত্মরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। চিবা প্রদেশের গভর্নর তোশিহিতো কুমাগাই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে, দুর্যোগের বড় প্রভাব পড়েছে যোগাযোগব্যবস্থায়। সড়ক ও রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী রাতভর আটকা পড়েন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের জন্য পানি, খাবার ও ঘুমানোর ব্যাগের ব্যবস্থা করে।
আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, বৃষ্টি কিছুটা কমলেও কান্তো অঞ্চলের বায়ুমণ্ডল এখনও অস্থিতিশীল। ফলে নতুন করে ভারি বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। নদী, নিচু এলাকা ও ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



